ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২

নারী নিরাপত্তার দাবিতে সোহরাওয়ার্দীতে জামায়াতের কর্মসূচি

২০২৬ জানুয়ারি ২৭ ১৮:৪৪:০৬

নারী নিরাপত্তার দাবিতে সোহরাওয়ার্দীতে জামায়াতের কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতে ইসলামীর নারী নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে রাজধানীতে বড় ধরনের সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে দলটির মহিলা শাখা।

জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখার উদ্যোগে আগামী ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, জামায়াতের ইতিহাসে এই প্রথম নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে এমন বাধ্যতামূলক পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কর্মসূচির পরও হামলার ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হয়, তাহলে মহিলা শাখার পক্ষ থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে ১১ দলীয় জোটের ব্যানারেও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হতে হবে। আপাতত এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে সতর্ক ও বিবেকবান হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখতে সবাইকে সংযত হতে হবে এবং আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায় জনগণই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন প্রত্যাখ্যান করে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, হামলার ঘটনাগুলোকে যারা অজুহাত বলছেন, তারা বাস্তবতা অস্বীকার করছেন। প্রতিটি ঘটনার প্রামাণ্য তথ্য জামায়াতের কাছে রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে দলকে মাঠছাড়া করার অপচেষ্টা চলছে। জামায়াত নির্বাচন বর্জনের পথে নয়; বরং একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে সরকারকে চাপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সারাদেশে নারী কর্মীদের ওপর হামলায় বিএনপির সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাঠের বাস্তবতায় বিএনপি ছাড়া আর কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। একদিকে বিএনপি, অন্যদিকে ১১ দলীয় জোট—লড়াই মূলত এই দুই পক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সে কারণেই আমরা লিখিতভাবে অভিযোগ উত্থাপন করেছি।

আইনগত ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু জায়গায় মামলা হলেও অনেক জায়গায় তা সম্ভব হচ্ছে না। নির্বাচনের সময় থানায় দৌড়ঝাঁপ করিয়ে ব্যস্ত রাখাও প্রতিপক্ষের একটি কৌশল। তবে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই দায়িত্ব নিতে হবে। প্রয়োজনে জামায়াতের নারী প্রতিনিধিরা সরাসরি কমিশনে গিয়ে প্রতিবাদ জানাবেন।

নারীদের ওপর রাজনৈতিক সহিংসতার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তুলে ধরে তাহের বলেন, আজ একটি দলের নারীরা আক্রান্ত হচ্ছেন, আগামীকাল অন্য দলের নারীরাও হতে পারেন। এই সহিংসতা চলতে থাকলে রাজনীতি থেকে নারীদের সরিয়ে দেওয়ার ভয়াবহ প্রক্রিয়া শুরু হবে। যেখানে নারী নিরাপদ নয়, সেখানে গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে না। এটি কোনো দলীয় বিষয় নয়—এটি একটি জাতীয় মানবাধিকার সংকট এবং সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ৩১ অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন।

সংবাদ সম্মেলনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সব হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নির্বাচনী কর্মসূচিতে নারীদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ, নির্বাচন কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা এবং গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের নিরপেক্ষ অবস্থান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত