ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২

দেশে ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীন-বাংলাদেশ চুক্তি

২০২৬ জানুয়ারি ২৭ ২০:১৫:৪২

দেশে ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীন-বাংলাদেশ চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও শক্তিশালী করতে সামরিক মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) উৎপাদনের পথে এগোল বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে চীনের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত বিমানবাহিনীর সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এবং চীনের পক্ষে চায়না ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন ইন্টারন্যাশনাল (সিইটিসি) চুক্তিতে অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে দেশে একটি আধুনিক ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপন করবে। এর মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর (টিওটি), সক্ষমতা উন্নয়ন, শিল্প দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রাথমিকভাবে মিডিয়াম অল্টিটিউড লো এন্ডুরেন্স (MALE) শ্রেণির ইউএভি এবং ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং (VTOL) ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজনের সক্ষমতা অর্জন করবে। ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ নিজস্ব ইউএভি উৎপাদনের পথও উন্মুক্ত হবে।

এই ড্রোনগুলো সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহারের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নজরদারি ও উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুক্তির ফলে দেশীয় ইউএভি উৎপাদনে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, জ্ঞানবিনিময় এবং দক্ষ অ্যারোস্পেস জনবল তৈরির মাধ্যমে জাতীয় প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে এ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ড্রোন কারখানা স্থাপন, প্রযুক্তি আমদানি ও স্থাপনের জন্য এলসি খোলা এবং পরিশোধ বাবদ ৫৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যয় করা হবে, যা চার অর্থবছরে পরিশোধ করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে ১০৬ কোটি টাকা, ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮ অর্থবছরে ১৫৫ কোটি টাকা করে এবং ২০২৮–২৯ অর্থবছরে প্রায় ১৫৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হবে। অবশিষ্ট ৩৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা দেশীয় মুদ্রায় এলসি চার্জ, ভ্যাট ও সুইফট চার্জ বাবদ ব্যয় করা হবে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত