ঢাকা, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
ই-লার্নিংয়ে যুক্ত হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের স্কুলগুলো
নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার আওতায় আনতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। তিন পার্বত্য জেলায় ১২টি বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন তিনি।
প্রাথমিক পর্যায়ে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের তিনটি প্রাথমিক এবং নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম চালু হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তিন পার্বত্য জেলার মোট ১৪৯টি নির্বাচিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।
ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
আজ থেকে যে বিদ্যালয়গুলোতে ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে সেগুলো হলো—রাঙামাটির রাণী দয়াময়ী উচ্চবিদ্যালয়, কাপ্তাই আল-আমিন নূরীয়া দাখিল মাদ্রাসা, ফারুয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া খাগড়াছড়ির কমলছড়ি পাইলট হাই স্কুল, হাজাছড়ি জুনিয়র হাই স্কুল, মানিকছড়ি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও পুজগাং মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বান্দরবানের বালাঘাটা আইডিয়াল স্কুল, হাজী ফিরোজা বেগম ওয়ামি একাডেমি, তিন্দু জুনিয়র হাই স্কুল ও বগামুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বজুড়ে যেখানে ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে, সেখানে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এতদিন সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল—এটি সরকারের ব্যর্থতা। তিনি বলেন, আজ মাত্র ১২টি স্কুল দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও লক্ষ্য সাড়ে তিন হাজার বিদ্যালয়ে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।
ড. ইউনূস বলেন, পাহাড়ি অঞ্চল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ভালো শিক্ষকরা সেখানে যেতে আগ্রহী হন না। ই-লার্নিং চালু হলে শিক্ষক সংকট আর বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের শিক্ষক এখন পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেট সংযোগ শুধু শিক্ষার নয়, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনবে। দুর্গম এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব থাকলেও অনলাইনের মাধ্যমে পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা পাওয়া সম্ভব হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষও এ দেশের সমান নাগরিক। অন্যদের মতো তারাও সমান সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে। দীর্ঘদিন এই বৈষম্য দূর করতে না পারা রাষ্ট্রের অযোগ্যতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরে ভার্চুয়ালি যুক্ত কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। ই-লার্নিং কার্যক্রম চালুর জন্য তারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে। তিনি জানান, ধাপে ধাপে ১৪৯টি বিদ্যালয়ে কার্যক্রম চালু করা হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি স্কুলকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেশের মূলধারার শিক্ষা ও বিশ্বের সঙ্গে আরও সংযুক্ত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার রায়ের মৃ’ত্যু
- সকালে না রাতে, কখন গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো?
- স্কলারশিপ দিচ্ছে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল আজই
- দেশে সোনার দামে বড় পতন
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- নবনিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য মোর্শেদ হাসান খানকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কা সিরোহী আর নেই