ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২
ই-লার্নিংয়ে যুক্ত হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের স্কুলগুলো
নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার আওতায় আনতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। তিন পার্বত্য জেলায় ১২টি বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন তিনি।
প্রাথমিক পর্যায়ে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের তিনটি প্রাথমিক এবং নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম চালু হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তিন পার্বত্য জেলার মোট ১৪৯টি নির্বাচিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।
ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
আজ থেকে যে বিদ্যালয়গুলোতে ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে সেগুলো হলো—রাঙামাটির রাণী দয়াময়ী উচ্চবিদ্যালয়, কাপ্তাই আল-আমিন নূরীয়া দাখিল মাদ্রাসা, ফারুয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া খাগড়াছড়ির কমলছড়ি পাইলট হাই স্কুল, হাজাছড়ি জুনিয়র হাই স্কুল, মানিকছড়ি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও পুজগাং মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বান্দরবানের বালাঘাটা আইডিয়াল স্কুল, হাজী ফিরোজা বেগম ওয়ামি একাডেমি, তিন্দু জুনিয়র হাই স্কুল ও বগামুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বজুড়ে যেখানে ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে, সেখানে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এতদিন সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল—এটি সরকারের ব্যর্থতা। তিনি বলেন, আজ মাত্র ১২টি স্কুল দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও লক্ষ্য সাড়ে তিন হাজার বিদ্যালয়ে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।
ড. ইউনূস বলেন, পাহাড়ি অঞ্চল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ভালো শিক্ষকরা সেখানে যেতে আগ্রহী হন না। ই-লার্নিং চালু হলে শিক্ষক সংকট আর বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের শিক্ষক এখন পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেট সংযোগ শুধু শিক্ষার নয়, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনবে। দুর্গম এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব থাকলেও অনলাইনের মাধ্যমে পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা পাওয়া সম্ভব হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষও এ দেশের সমান নাগরিক। অন্যদের মতো তারাও সমান সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে। দীর্ঘদিন এই বৈষম্য দূর করতে না পারা রাষ্ট্রের অযোগ্যতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরে ভার্চুয়ালি যুক্ত কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। ই-লার্নিং কার্যক্রম চালুর জন্য তারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে। তিনি জানান, ধাপে ধাপে ১৪৯টি বিদ্যালয়ে কার্যক্রম চালু করা হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি স্কুলকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেশের মূলধারার শিক্ষা ও বিশ্বের সঙ্গে আরও সংযুক্ত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিপিএল ২০২৬ ফাইনাল: রাজশাহী বনাম চট্টগ্রাম-খেলাটি সরাসরি দেখুন
- ঢাবিতে পার্সিয়ান ডিবেটিং ক্লাবের উদ্যোগে ‘ফিউশন ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, তালিকা দেখুন এখানে
- ইপিএস প্রকাশ করেছে তিন কোম্পানি
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এপেক্স ট্যানারি
- সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শীতবস্ত্র বিতরণ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে শাহজীবাজার পাওয়ার
- ইপিএস-ডিভিডেন্ড প্রকাশ করবে ১৮ কোম্পানি
- ইপিএস প্রকাশ করেছে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং
- শেয়ারবাজারে সূচক হ্রাস, বিনিয়োগকারীদের মনোবল অক্ষুণ্ণ
- ইপিএস প্রকাশ করবে ৫৮ কোম্পানি
- ৩০০ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করলো ইসি
- নবম পে-স্কেল ২০২৫: ২০টি গ্রেডের পূর্ণাঙ্গ বেতন তালিকা প্রকাশ
- রাতেই হতে পারে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল, যেভাবে দেখবেন
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশ