ঢাকা, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২
আবু সাঈদের মৃ'ত্যু গুলিবিদ্ধ হয়ে হয়নি, যা জানাল আইনজীবী
নিজস্ব প্রতিবেদক: আবু সাঈদের মৃত্যু গুলিবিদ্ধ হয়ে হয়নি বরং অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু ঘটেছে বলে দাবি করেছেন মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার নথি ও উপস্থাপিত প্রমাণ গুলিতে মৃত্যুর দাবিকে সমর্থন করে না।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন দুলু। এদিন আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
দুলু জানান, তিনি কনস্টেবল সুজন ও এএসআই আমির হোসেনসহ তিন আসামির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তার যুক্তির অন্যতম বিষয় ছিল আবু সাঈদের ওপর ব্যবহৃত রাবার বুলেট বা পিলেটস আদৌ প্রাণঘাতী ছিল কি না। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে প্রসিকিউশন কোনো কার্যকর পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেনি, যা প্রমাণ করে আবু সাঈদের মৃত্যু গুলিতে হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদের গেঞ্জিতে কোনো ছিদ্র পাওয়া যায়নি, যা গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বরং এটি মাথায় আঘাতজনিত মৃত্যুর সম্ভাবনাকেই শক্তিশালী করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই তথ্য হেড ইনজুরিতে মৃত্যুর ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দুলু। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা পাঁচটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের একটিতেও সিভিল সার্জনের স্বাক্ষর নেই, যা প্রতিবেদনগুলোকে ত্রুটিপূর্ণ বা ডিফেক্টিভ করে তোলে।
ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, আবু সাঈদকে যখন ছয়জন পুলিশ সদস্য ঘিরে ধরেন এবং একজন লাঠি দিয়ে আঘাত করেন, তখন তিনি আত্মরক্ষার্থে নিজের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে পুলিশের লাঠি প্রতিহত করেন। তার মতে, এই ঘটনাই আবু সাঈদের সাহসী প্রতিবাদের প্রমাণ এবং মামলাটিতে একটি ‘বীরত্বগাঁথা’ বিদ্যমান।
গেঞ্জির ছিদ্র না থাকার প্রসঙ্গে দুলু বলেন, মামলার ২৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে গেঞ্জিতে কোনো ছিদ্র নেই এবং সেটি সামনে না পেছনের অংশ—তাও তিনি নিশ্চিত নন। অথচ এটি প্রমাণ করার দায়িত্ব ছিল প্রসিকিউশনের, যা তারা ব্যর্থ হয়েছে। এই সন্দেহের সুবিধা আইন অনুযায়ী আসামিদের পাওয়ার কথা।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছবিতে আবু সাঈদের শরীরে গুলির চিহ্ন দেখা গেলেও, আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাত নিশ্চিত করতে এক্স-রে বা রেডিওস্কপি অপরিহার্য। কিন্তু এমন কোনো পরীক্ষা করা হয়নি, এমনকি কোনো কার্তুজও জব্দ করা হয়নি। এতে প্রশ্ন ওঠে আদৌ গুলি শরীরে ছিল কি না, কিংবা ময়নাতদন্ত যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দাবি করেছেন যে তাকে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের মন্তব্য পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছিল। কিন্তু কোথাও তিনি বলেননি যে এক্স-রে বা রেডিওস্কপি করতে তাকে বাধা দেওয়া হয়েছিল। এই বিষয়টিও মামলার গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করেন দুলু।
রায়ের বিষয়ে প্রত্যাশা জানিয়ে আসামিপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, তাদের দাবি হলো আসামিদের খালাস দিয়ে প্রকৃত দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা। তার অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে ছয়জন পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলেও মাত্র একজনকে শনাক্ত করে আসামি করা হয়েছে। বাকি দায়ীদের আইনের আওতায় এনে বিচার হলে তবেই আবু সাঈদের সাহসী ভূমিকার প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
- শুরু হচ্ছে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’, স্কোয়াড ও সূচি ঘোষণা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৩ ফেব্রুয়ারি)
- ঢাবির ১৯ শিক্ষার্থী পেলেন ‘টিএফপি ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
- দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিম চালু
- ১০০ টাকা প্রাইজ বন্ডের ১২২তম ড্র অনুষ্ঠিত, জেনে নিন বিজয়ী নম্বরগুলো
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: জেনে নিন সরাসরি দেখার উপায়
- জুলাই শহীদের বোনের দেওয়া উপহারে অশ্রুসিক্ত মির্জা ফখরুল
- কে এই কু'খ্যাত জেফ্রি এপস্টেইন?
- এভারকেয়ারে বিশেষ ছাড়ে চিকিৎসা পাবেন ঢাবি অ্যালামনাই সদস্যরা
- ঢাবির 'বি' ইউনিটের পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, পরিবর্তন ৮ জনের
- গ্রামীণফোনের ২১৫ শতাংশ ফাইনাল ডিভিডেন্ড ঘোষণা