ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২

ছাত্রদল সন্ত্রাসে অভিযুক্ত, বিচার চাইলেন নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী

২০২৬ জানুয়ারি ২৭ ১৫:৩০:৫৮

ছাত্রদল সন্ত্রাসে অভিযুক্ত, বিচার চাইলেন নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগে বিএনপির একাংশকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দাবি, বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি পুরো দেশবাসীর কাছে অভিযোগ তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ছাত্রদলের পরিচয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তার কাছে কোনো দুর্নীতির অর্থ নেই, নেই সন্ত্রাসী টাকাও। বরং এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি জানান, হাবিবুল্লাহ কলেজে যাওয়ার আগেই সেখানে প্রশ্নফাঁস, সন্ত্রাসী তৎপরতা ও গভর্নিং বোর্ডের অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ পান। তার দাবি, ওই কলেজের অধ্যক্ষ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং গভর্নিং বোর্ড গঠন করেছেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তিনি প্রশ্ন তোলেন—দলে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া হবে, নাকি শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের বহিষ্কার করা হবে? একই সঙ্গে মির্জা আব্বাসকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কারের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে অতীতের একটি ব্যক্তিগত সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করেন। নাসীরুদ্দীন বলেন, ওই সাক্ষাতে খালেদা জিয়া তাদের জন্য দোয়া করেছিলেন এবং দেশকে সঠিক পথে রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তার ভাষায়, আজ যদি খালেদা জিয়া সুস্থ থাকতেন, তাহলে বর্তমান এসব কর্মকাণ্ড দেখে তিনি লজ্জিত হতেন।

হামলার সঙ্গে জড়িতদের নাম উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন বলেন, সাবেক ছাত্রদল নেতাসহ কয়েকজন ব্যক্তি এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন, যাদের অনেকেরই এখন আর ছাত্রত্ব নেই। পুরো ঘটনার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে তিনি মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে দায়ী করেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এবং সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ না থাকলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা কী—সে প্রশ্নের জবাব নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে।

শেষে তিনি বলেন, নির্বাচনে জয় বা পরাজয় যাই হোক, ঢাকা-৮ এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হতে দেওয়া হবে না। আগামী ১২ তারিখের ভোটে জনগণ সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত