ঢাকা, শনিবার, ৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩
সরকার গঠনের পর অবস্থান পরিবর্তন করেছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার
নিজস্ব প্রতিবেদক: জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংবিধান সংস্কার, গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে শুরু থেকেই বিএনপি বিভিন্ন পর্যায়ে একমত থাকলেও সরকার গঠনের পর তারা অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এটি রাজনৈতিক দ্বিচারিতা এবং জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার বিকেলে পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জুলাই সনদে এনসিপি ছাড়া প্রায় সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল। পরে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি এবং ২৫ নভেম্বর গণভোটের অধ্যাদেশ ঘোষণার পর একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি দাবি করেন, পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক মাস বিএনপি কোনো আপত্তি না তুললেও পরে সরকার গঠনের পর তারা সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তন করে।
তিনি আরও বলেন, যারা গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, তাদের একটি অংশ এখন সেই গণভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অথচ গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
জামায়াত নেতা বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটকে আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা চলছে। তার মতে, জুলাই সনদে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকলেও গণভোটে সে সুযোগ ছিল না। তিনি দাবি করেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন এবং বিএনপির আপত্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সংবিধান সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেন দলীয় প্রধান পদে থাকতে না পারেন, উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, সাংবিধানিক পদে নিয়োগে আলাদা সার্চ কমিটি গঠন এবং বিচারপতি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মতো সংস্কার না হলে জুলাইয়ের ত্যাগ বৃথা যাবে।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছামতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ দিতে পারেন, যা ভবিষ্যতে আবারও এককেন্দ্রিক বা ফ্যাসিবাদী শাসনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গোলাম পরওয়ার সংসদের আসন্ন অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক ডেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তারা সংঘাত বা সহিংসতা চান না, বরং সংসদের ভেতর থেকেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান।
বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সঙ্গে থাকলে সঙ্গী আর না থাকলে জঙ্গি এই ধরনের প্রশ্নের জবাব বিএনপিকেই দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোটগতভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা হলেও বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত বিএনপির অনুরোধে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়েছিল, কারণ তখন দলটির নিবন্ধন ছিল না এবং জোটগত সম্পর্কের ভিত্তিতে একক প্রতীকে নির্বাচন করা হয়েছিল।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র নতুন কমিটি ঘোষণা
- শিক্ষাবৃত্তি দেবে ইবনে সিনা ট্রাস্ট, আবেদন শুরু
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী
- ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামলো আরও ১০ ব্যাংক
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- নতুন ট্রেন্ড: ক্রেয়ন স্টাইলে প্রোফাইল ছবি বানাবেন যেভাবে
- ১:৮ অনুপাতে নতুন পে স্কেল, বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি টাকা
- সাদিক কায়েমের বিয়ে নিয়ে যা জানা গেছে
- ব্যবসায় বড় লাফ ইউসিবি ও লিন্ডে বিডির
- টাইমস হায়ার এডুকেশন এশিয়া র্যাংকিংসে যৌথভাবে শীর্ষে ঢাবি
- মৌসুমীর ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে মিশার সহায়তা চাইলেন ওমর সানী
- বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন পরিচালক নজরুল ইসলাম
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ মে)
- নবম পে স্কেলে বেতন কাঠামো কত নির্ধারণ করা হয়েছে?