ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩

‘ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশার অংশ ছিল শাপলা গণহত্যা’

২০২৬ মে ০৫ ২০:৩৪:৪০

‘ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশার অংশ ছিল শাপলা গণহত্যা’

নিজস্ব প্রতিবেদক: শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার ও শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার ইসলাম ও ইসলামী নেতৃবৃন্দকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশার অংশ হিসেবে শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালিয়েছিল। “২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব সেই ফ্যাসিবাদকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে” যোগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার কর্তৃক সংঘটিত ‘গণহত্যা’র বিচারের দাবিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে মতিঝিল শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল জব্বার এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম।

নূরুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর আলেম-ওলামাদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। রিমান্ডের নামে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়, যা ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু শাপলা চত্বরেই নয়, আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ, বাগেরহাট ও হাটহাজারীতেও নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৩৪ জন মানুষকে হত্যা করা হয়। এছাড়া প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার মানুষকে আসামি করে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়, যার ফলে অনেকেই দীর্ঘ সময় বিনা অপরাধে কারাবন্দি ছিলেন।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ৫ মে রাতের ঘটনা গোপন রাখতে দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন ও চ্যানেল ওয়ানসহ কয়েকটি গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা জাতির সামনে তুলে ধরা জরুরি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের দাবি জানান।

মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর বিরোধী জোট বিক্ষোভ ও হরতাল কর্মসূচি পালন করেছিল এবং সে সময়ও তারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তাই এ ঘটনার বিচার বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি ও ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং শাপলা শহীদ খালেদ সাইফুল্লাহর বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ মহানগর দক্ষিণের নেতাকর্মীরা।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?

দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দামের পতন ঘটেছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে কয়েক হাজার টাকা কমে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা... বিস্তারিত