ঢাকা, শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বছরের শিশুকে আটক করেছে আইসিই এজেন্ট

২০২৬ জানুয়ারি ২৪ ২২:৩০:০৬

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বছরের শিশুকে আটক করেছে আইসিই এজেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিসে দুই বছরের এক শিশুকন্যা আইসিই এজেন্টদের হাতে আটক হওয়ার ঘটনা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার বাবার সঙ্গে শিশুটি গ্রেপ্তার হয়ে টেক্সাসে পাঠানো হয়। আদালতের নথি ও আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ব্যাপক নৃশংসতার ইঙ্গিত বহন করছে।

ঘটনা বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ঘটে, যখন এলভিস জোয়েল টিই এবং তার দুই বছরের মেয়ে দোকান থেকে ফিরে আসছিলেন। এই সময় আইসিই সদস্যরা তাদের আটক করে। পরিবারের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, এ গ্রেপ্তারের সময় কোনো ওয়ারেন্ট দেখানো হয়নি।

আইসিই এজেন্টরা গাড়িতে থাকা শিশুর জানালার কাচ ভেঙে শিশুটিকে বাহিরে নিয়ে যান। শিশুর মা কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন, তবে বাবা শিশুকে মায়ের কাছে নিতে চাইলেও বাধা দেওয়া হয়। শিশুটিকে ইমিগ্রেশন গাড়িতে করে টেক্সাসের একটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়।

ঘটনা প্রকাশ পেয়ে পরিবারের আইনজীবীরা জরুরি ভিত্তিতে আদালতে আবেদন করেন। রাত ৮টা ১০ মিনিটে একজন ফেডারেল বিচারক আদেশ দেন, যে শিশুটি মিনেসোটার বাইরে পাঠানো যাবে না। একই সাথে বিচারক রাত ৯টার মধ্যে শিশুটিকে মুক্ত করার নির্দেশ দেন। তিনি মন্তব্য করেন, “এই শিশুর কোনো অপরাধের ইতিহাস নেই।”

তবুও সরকারি কর্মকর্তারা আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটি টেক্সাসে পাঠিয়ে দেন।

আইনজীবী ইরিনা ভায়নারম্যান জানান, ব্যাপক আইনি লড়াই শেষে শিশুটি শুক্রবার বিকেলে মিনেসোটায় ফিরে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে বাবা এলভিস জোয়েল এখনো আটক রয়েছেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, শিশুর বাবা গাড়ি বেপরোয়াভাবে চালাচ্ছিলেন এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন। তারা আরও বলেছে, শিশুর মা বাবাকে নিতে অস্বীকার করেছিলেন।

আইনজীবীরা এই দাবিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা জানান, আইসিই সদস্যরাই শিশুটিকে মায়ের কাছে যেতে দেননি। গ্রেপ্তারের সময় উপস্থিত জনতা ছত্রভঙ্গ করতে এজেন্টরা রাসায়নিক গ্যাস ও ফ্ল্যাশ-ব্যাং ব্যবহার করেন।

আইনজীবী ভায়নারম্যান বলেন, “এ নৃশংসতা ভাষায় প্রকাশের বাইরে। কোনো মা-বাবাই সন্তানের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার এমন ভয়াবহতা সহ্য করতে পারবেন না। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে, তা কেউ জানে না।”

তাঁর অভিযোগ, আইসিই এজেন্টরা প্রায়ই আসামীদের অন্য রাজ্যে স্থানান্তর করছেন, যাতে তারা আইনগত সহায়তা না পান এবং আদালতের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যান।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

১২ ঘণ্টার ব্যবধানেই সোনার দামে বড় লাফ

১২ ঘণ্টার ব্যবধানেই সোনার দামে বড় লাফ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের অস্বাভাবিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের বাজারে আবারও বড় ধরনের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স... বিস্তারিত