ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

এক সপ্তাহের তীব্র হা/মলার পরও ইরানের মিসা/ইল লঞ্চার অক্ষত: রিপোর্ট

২০২৬ মার্চ ১৩ ১৯:৫৫:৫১

এক সপ্তাহের তীব্র হা/মলার পরও ইরানের মিসা/ইল লঞ্চার অক্ষত: রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত এবং তীব্র বিমান হামলার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এ তথ্য জানানো হয়েছে। গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, ইরানের বিশাল ভূখণ্ডে চলমান ও ছোট আকৃতির এসব লঞ্চার শনাক্ত করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে হামলাকারী বাহিনী।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে যে তারা ইরানের দুই-তৃতীয়াংশ লঞ্চার ধ্বংস করেছে। তবে পশ্চিমা বিশ্লেষকরা বলছেন, এক সপ্তাহ আগে ধ্বংস হওয়া লঞ্চারের হার ছিল ৬০ শতাংশ, যা বর্তমানেও প্রায় একই জায়গায় আটকে আছে। এর অর্থ হলো, তীব্র হামলার পরও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা খুব বেশি কমেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মূলত ‘মোবাইল লঞ্চার’ বা ভ্রাম্যমাণ যান ব্যবহার করছে, যা একটি বড় দেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে রাখা সহজ। এছাড়া ইরানের আকাশসীমা এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমানগুলো সব এলাকায় অবাধে অভিযান চালাতে পারছে না।

কার্নেগি এন্ডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর সিনিয়র ফেলো অঙ্কিত পান্ডে জানান, ইরান সম্ভবত এখন তাদের মূল লঞ্চারগুলো সংরক্ষণের কৌশল নিয়েছে এবং এর বদলে শাহেদ ড্রোন ব্যবহারের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।

যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ২ হাজার ৪০০টিরও বেশি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন, ৭৮৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলের হিসাবমতে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের ভাণ্ডারে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, গত কয়েক দিনে ইরান থেকে চালানো হামলার হার ৮০ শতাংশ কমেছে। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকস-এর প্রতিরক্ষা প্রধান বেক্কা ওয়াসার জানিয়েছেন, সপ্তাহের শেষ তিন দিনে ইরান দৈনিক গড়ে ২১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, হুথি স্টাইলে রেলগাড়ি থেকে ছোড়া ‘৩৫৮ ক্ষেপণাস্ত্র’ এবং ইনফ্রারেড সেন্সরযুক্ত অস্ত্রগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন, যা আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত