ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিস্ফরোক মন্তব্য ট্রাম্পের

২০২৬ মার্চ ১২ ২১:২৬:০৬

তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিস্ফরোক মন্তব্য ট্রাম্পের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। ঠিক একই সময় বৈশ্বিক তেলের বাজারে দাম বৃদ্ধি নিয়ে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় এনেছে।

বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ, তাই তেলের দাম যখন বাড়ে, আমরা তখন অনেক অর্থ আয় করি।’

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, তেলের দাম বাড়া তার প্রধান উদ্বেগ নয়। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘তেলের দামের চেয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার কাছে বড় স্বার্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ইরানের মতো একটি শয়তান সাম্রাজ্যকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও প্রকৃতপক্ষে বিশ্বকে ধ্বংস করা থেকে থামানো। কখনোই আমি তা হতে দেব না।’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যেই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানিতে বাধা তৈরি হওয়ায় সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি তেল উৎপাদনকারী দেশ উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার একপর্যায়ে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছায়। পরে কিছুটা কমলেও যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এখনও দাম অনেক বেশি রয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর প্রতি তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বার্তায় মোজতবা খামেনির বক্তব্য তুলে ধরেন একজন উপস্থাপক। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহতদের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি সকলকে আশ্বস্ত করছি যে আমরা আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নিতে পিছপা হব না। আমাদের প্রতিশোধের শুধুমাত্র ইসলামী বিপ্লবের মহান নেতার (আয়াতুল্লাহ আল খামেনি) শাহাদাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শত্রুদের হাতে শহীদ হওয়া জাতির প্রতিটি সদস্যের জন্য প্রতিশোধের আলাদা আলাদা ফাইল খোলা হবে।’

ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘স্কুলের শিশুসহ শহীদ সকল শিশুদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ইরানের এখনও হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার কৌশল অবলম্বন করা উচিত।’

প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্দেশে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘তেহরান তার সকল প্রতিবেশীর সাথে ঐক্য এবং উষ্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ পারস্পরিক সম্পর্কের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। তবে এই অঞ্চলে সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ইরান ওই ঘাঁটিগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখবে’।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত