ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
ইরানের স্কুলে ক্ষেপ/ণাস্ত্র হা/মলা: দায় নিয়ে লুকোচুরি ও নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘটা এই ভয়াবহ দুর্যোগে ১৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ছিল ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী। এই হামলাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠলেও দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।
কী ঘটেছিল সেদিন?
২৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে, যখন ক্লাস চলছিল, তখন ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের ‘শাজারেহ তায়্যেবেহ’ বালিকা বিদ্যালয়ে একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। মুহূর্তেই দোতলা ভবনটি ধসে পড়ে এবং ভেতরে থাকা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। এতে অন্তত ১৭০ জন প্রাণ হারান। ইরানের অভিযোগ, এটি ছিল একটি ‘ডাবল-ট্যাপ’ হামলা। অর্থাৎ, প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত করার কিছুক্ষণ পর যখন মানুষ উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসে, তখন দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় যাতে প্রাণহানি আরও বাড়ে।
প্রমাণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ‘ভুল সমীকরণ’:
ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ এবং সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, হামলাটিতে ব্যবহৃত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্র। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিংকট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক ক্যানসিয়ান আল জাজিরাকে জানান, সম্ভবত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে পুরনো তথ্য ব্যবহারের কারণে এই ট্র্যাজেডি ঘটেছে।
জানা গেছে, স্কুলটি যে ব্লকে অবস্থিত, তা আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি নৌ-ঘাঁটির অংশ ছিল। কিন্তু কয়েক বছর আগেই সেই অংশটি আলাদা করে স্কুল নির্মাণ করা হয়। মার্কিন গোয়েন্দারা তাদের টার্গেট লিস্ট হালনাগাদ না করায় তারা স্কুল ভবনটিকে সামরিক স্থাপনা ভেবে ভুলবশত আঘাত হেনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া:
হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, সম্ভবত ইরান নিজেই এই হামলা চালিয়েছে। তিনি বিতর্কিতভাবে বলেন, “ইরানের কাছেও টমাহক মিসাইল আছে।” তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন বিষয়টি পেন্টাগন তদন্ত করছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের ভুলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই ঘটনার সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে সরাসরি অস্বীকার করেছে।
সিনেটরদের চাপ ও তদন্তের দাবি:
এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন ৪৬ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর। চিঠিতে নিহতদের অধিকাংশই কোমলমতি শিশু উল্লেখ করে জানতে চাওয়া হয়েছে—এই হামলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করা হয়েছিল কি না এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, মিনাব স্কুলের এই হামলা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ভয়াবহতাকে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন করে উন্মোচিত করেছে এবং মার্কিন জনমতেও যুদ্ধের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বাংলাদেশকে ৩০৫ রানের লক্ষ্য দিল আফগানিস্তান, জবাবে ১৬৯ রান
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- এসএসসি-এইচএসসিতে ফেল করলে ফের পরীক্ষা, এরপর কারিগরি শিক্ষা
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- খুলনায় ৩০ কেজি ধানে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড়
- শনিবার ঢাকায় বন্ধ যেসব মার্কেট ও দোকানপাট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ অক্টোবর)
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন