ঢাকা, বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

৬১ ব্যাংক নয়, ১০–১৫ ব্যাংকই যথেষ্ট: গভর্নর

২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৮:৪৭:২০

৬১ ব্যাংক নয়, ১০–১৫ ব্যাংকই যথেষ্ট: গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ব্যাংকিং খাতে অতি সম্প্রসারণ ও দুর্বল সুশাসনই বর্তমান সংকটের মূল কারণ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। বাস্তব চাহিদার তুলনায় বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি উল্লেখ করে তিনি ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, বর্তমানে দেশে ৬১টি ব্যাংক কার্যক্রম চালাচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশের মতো অর্থনীতিতে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংক থাকলেই যথেষ্ট বলে তিনি মনে করেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম।

গভর্নর বলেন, ব্যাংকের সংখ্যা সীমিত করা গেলে তদারকি ও সুশাসন নিশ্চিত করা তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে মাত্র দুটি রেখে বাকি ব্যাংকগুলো একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সঠিক গভর্ন্যান্সের অভাবই এই খাতকে আজ সংকটের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে টেকসই করতে হলে সব পর্যায়ে সংস্কার অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন গভর্নর।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত একটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যাংকিং খাতকে ঘুরে দাঁড় করাতে বর্তমান গভর্নরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতের নাজুক অবস্থা এখন আর গোপন নয়।

তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নানামুখী সংস্কার উদ্যোগ ও নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এই খাত পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ইতিবাচক অগ্রগতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ্ এবং সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত