ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

শেয়ারবাজার আধুনিকীকরণে বিএসইসির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৯:০৮:৫৮

শেয়ারবাজার আধুনিকীকরণে বিএসইসির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি’র মাল্টিপারপাস হলে বেলা ১০:৩০ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত এই ৫ম মাসিক সমন্বয় সভায় শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা শেয়ারবাজারের আইনি সংস্কার, উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ এবং প্রযুক্তিগত উদ্যোগের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের গঠিত কমিটির সভাপতি এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী সভায় বলেন, শেয়ারবাজারের চিহ্নিত প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য সব পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অংশীজনদের মতামত ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করা গেলে বাজারের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। সমাপ্ত ২০২৫ বছরে সফল সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি দ্রুততম সময়ে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য স্থির করার আহ্বান জানান।

বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ কমিশনের পক্ষ থেকে গৃহীত বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’, ‘মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫’ এবং ‘পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫’—এই তিনটি নীতিমালা শেয়ারবাজার সংস্কারের প্রধান ভিত্তি হিসেবে ২০২৫ সালের মধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আইপিও-কে শেয়ারবাজারের ‘হৃৎপিণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, নতুন পাবলিক অফার রুলসের মাধ্যমে বাজারে মানসম্মত শেয়ার প্রবেশের পথ উন্মুক্ত হয়েছে এবং এই সুযোগকে সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ভূমিকা জরুরি। একইসঙ্গে তিনি বাজার সংস্কারে প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার ধারাবাহিক সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

সভায় শেয়ারবাজারের আধুনিকায়নের জন্য বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ও আলোচিত হয়। পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, বাজারে নতুন পণ্য বা ইনস্ট্রুমেন্ট প্রবর্তন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রোড শোর আয়োজনসহ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ই-কেওয়াইসি পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত অনলাইনে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা এপিআই কানেকটিভিটি বৃদ্ধি, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা এবং মার্জার ও একুইজিশন প্রক্রিয়া গতিশীল করার বিষয়েও একমত হন।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন লাভজনক কোম্পানি এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করার মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন জোরদার করার পাশাপাশি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কাজের পরিধি বৃদ্ধি ও জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে পাক্ষিক ভিত্তিতে বিনিয়োগ শিক্ষা বিষয়ক অনুষ্ঠান প্রচারের প্রস্তাবও আলোচিত হয়।

সভায় বিএসইসির কমিশনার মুঃ মোহসিন চৌধুরী, মোঃ আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মোঃ সাইফুদ্দিনসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, সিসিবিএল চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মোঃ ওয়াহিদ-উজ-জামান, ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, আইসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিএমবিএ-এর শীর্ষ প্রতিনিধিরাও সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভা শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বাজারে টেকসই সংস্কার ও উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং বাজারের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশনের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত