ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
২০২৫ সালে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগে ভাটা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৫ সালে ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ নাটকীয়ভাবে কমেছে। বছর শেষে পোর্টফোলিও পুনর্গঠন, কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বিশ্ববাজারের সতর্ক অবস্থানের প্রভাবে লেনদেন সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। ডিএসইর তথ্যমতে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিদেশি লেনদেনের পরিমাণ ছিল মাত্র ৫ মিলিয়ন ডলার, যা অক্টোবর ও নভেম্বরের তুলনায় অনেক কম। বছরের শুরুর দিকে মে ও জুলাই মাসে বিদেশি অংশগ্রহণ কিছুটা বাড়লেও শেষার্ধে তা আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
সমাপ্ত অর্থবছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা ছিল প্রবল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মাসে তারা প্রায় ১২০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন, বিপরীতে কেনা হয়েছে মাত্র ২ কোটি টাকার শেয়ার। বিশেষ করে বড় মূলধনী বা লার্জ-ক্যাপ কোম্পানিগুলো থেকে তারা বিনিয়োগ সরিয়ে নিয়েছেন। এর মধ্যে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট থেকে সর্বোচ্চ ৩৮ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণফোন, সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা ও ব্র্যাক ব্যাংক থেকেও বিদেশিরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করেছেন।
শেয়ার বিক্রির হিড়িকের মধ্যেও গুটিকয়েক কোম্পানিতে বিদেশিরা সামান্য বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। বেক্সিমকো ফার্মা, প্রাইম ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের অংশীদারিত্ব সামান্য বাড়লেও তা সামগ্রিক বহিঃপ্রবাহ বা ক্যাশ আউট ফ্লো-এর তুলনায় অতি নগণ্য। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্দা কেবল আস্থার অভাব নয়, বরং বছরের শেষ সময়ে আন্তর্জাতিক তহবিলের নিয়মিত পোর্টফোলিও সমন্বয়ের একটি অংশ। বর্তমানে ডিএসইতে মোট বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকায়।
বিনিয়োগ হ্রাসের পেছনে বৈশ্বিক ইনডেক্স থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়াকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ফ্লোর প্রাইস আরোপের ফলে মূল্য নির্ধারণ ও তারল্য বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এফটিএসই ইনডেক্স থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। যদিও বিএসইসি গত অর্থবছরের শুরু থেকে অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, তবুও দুটি কোম্পানিতে এখনও ফ্লোর প্রাইস বহাল থাকায় বৈশ্বিক ইনডেক্সে ফেরার পথ এখনও মসৃণ হয়নি। এছাড়া লার্জ-ক্যাপ শেয়ারের অভাব ও সুশাসনের ঘাটতিও বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে।
তবে আশার কথা হচ্ছে, নরওয়ের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলসহ ইউরোপ ও আমিরাত ভিত্তিক কিছু প্রতিষ্ঠান এখনও বাজারে সক্রিয় রয়েছে। ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রধান নির্বাহীরা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে আগামী মাসগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগে আবার গতি ফিরতে পারে। বর্তমানে ডিএসইর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মাত্র ৩৬ শতাংশে বিদেশিদের সামান্য অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বৃদ্ধির প্রচুর সুযোগ রয়েছে।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভার তারিখ প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ সেপ্টেম্বর)