ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
২০২৫ সালে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগে ভাটা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৫ সালে ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ নাটকীয়ভাবে কমেছে। বছর শেষে পোর্টফোলিও পুনর্গঠন, কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বিশ্ববাজারের সতর্ক অবস্থানের প্রভাবে লেনদেন সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। ডিএসইর তথ্যমতে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিদেশি লেনদেনের পরিমাণ ছিল মাত্র ৫ মিলিয়ন ডলার, যা অক্টোবর ও নভেম্বরের তুলনায় অনেক কম। বছরের শুরুর দিকে মে ও জুলাই মাসে বিদেশি অংশগ্রহণ কিছুটা বাড়লেও শেষার্ধে তা আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
সমাপ্ত অর্থবছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা ছিল প্রবল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মাসে তারা প্রায় ১২০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন, বিপরীতে কেনা হয়েছে মাত্র ২ কোটি টাকার শেয়ার। বিশেষ করে বড় মূলধনী বা লার্জ-ক্যাপ কোম্পানিগুলো থেকে তারা বিনিয়োগ সরিয়ে নিয়েছেন। এর মধ্যে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট থেকে সর্বোচ্চ ৩৮ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণফোন, সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা ও ব্র্যাক ব্যাংক থেকেও বিদেশিরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করেছেন।
শেয়ার বিক্রির হিড়িকের মধ্যেও গুটিকয়েক কোম্পানিতে বিদেশিরা সামান্য বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। বেক্সিমকো ফার্মা, প্রাইম ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের অংশীদারিত্ব সামান্য বাড়লেও তা সামগ্রিক বহিঃপ্রবাহ বা ক্যাশ আউট ফ্লো-এর তুলনায় অতি নগণ্য। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্দা কেবল আস্থার অভাব নয়, বরং বছরের শেষ সময়ে আন্তর্জাতিক তহবিলের নিয়মিত পোর্টফোলিও সমন্বয়ের একটি অংশ। বর্তমানে ডিএসইতে মোট বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকায়।
বিনিয়োগ হ্রাসের পেছনে বৈশ্বিক ইনডেক্স থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়াকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ফ্লোর প্রাইস আরোপের ফলে মূল্য নির্ধারণ ও তারল্য বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এফটিএসই ইনডেক্স থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। যদিও বিএসইসি গত অর্থবছরের শুরু থেকে অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, তবুও দুটি কোম্পানিতে এখনও ফ্লোর প্রাইস বহাল থাকায় বৈশ্বিক ইনডেক্সে ফেরার পথ এখনও মসৃণ হয়নি। এছাড়া লার্জ-ক্যাপ শেয়ারের অভাব ও সুশাসনের ঘাটতিও বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে।
তবে আশার কথা হচ্ছে, নরওয়ের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলসহ ইউরোপ ও আমিরাত ভিত্তিক কিছু প্রতিষ্ঠান এখনও বাজারে সক্রিয় রয়েছে। ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রধান নির্বাহীরা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে আগামী মাসগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগে আবার গতি ফিরতে পারে। বর্তমানে ডিএসইর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মাত্র ৩৬ শতাংশে বিদেশিদের সামান্য অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বৃদ্ধির প্রচুর সুযোগ রয়েছে।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)