ঢাকা, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২

পুতিনের ঘনিষ্ঠ কাদিরভকে টার্গেট করার ইঙ্গিত জেলেনস্কির

২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১৫:০৬:৩৫

পুতিনের ঘনিষ্ঠ কাদিরভকে টার্গেট করার ইঙ্গিত জেলেনস্কির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক চাপ আরও জোরালো করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে স্পষ্ট বার্তা পাঠালেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়ার ওপর শক্ত অবস্থান নিলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই শান্তিচুক্তির পথ তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় আলোচনায় উঠে আসে চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের নামও, যাকে ঘিরে কৌতুকের ছলে বিতর্কিত মন্তব্য করেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট।

ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সব উপকরণ রয়েছে। ওয়াশিংটন চাইলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে এবং অতীতেও তারা তা প্রমাণ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জেলেনস্কি বলেন, সাম্প্রতিক ভেনেজুয়েলা অভিযানের দৃষ্টান্ত টেনে দেখা যায়—যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিলে কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে অভিযান চালাতে পারে। একই রকম কোনো পদক্ষেপ যদি রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের বিরুদ্ধেও নেওয়া হয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট পুতিন হয়তো পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হবেন। এই মন্তব্যটি তিনি হালকা রসিকতার ভঙ্গিতে করেন।

এই বক্তব্য এমন এক প্রেক্ষাপটে এসেছে, যখন কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে। অভিযানের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ। বর্তমানে মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদক-সন্ত্রাসসহ একাধিক অভিযোগের বিচার চলছে।

রমজান কাদিরভ নিজেকে প্রকাশ্যে ‘পুতিনের পদাতিক সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দেন। ২০০৭ সাল থেকে চেচনিয়া শাসন করে আসা এই নেতা তার শাসনামলে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত। জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো তার ও তার পরিবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চললেও রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান এবং ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতিতে রাশিয়ার অনাগ্রহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এর আগে একই দিনে জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, সবকিছু অনুকূলে থাকলে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব হতে পারে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত