ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
এসএমই প্ল্যাটফর্মের গতি বাড়াতে বিসিএইসি’র নতুন নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমই বোর্ডের লেনদেনে গতি ফেরাতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এখন থেকে সেকেন্ডারি মার্কেটে অন্তত ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে এমন যেকোনো বিনিয়োগকারী এসএমই প্ল্যাটফর্মে শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত কমিশনের ৯৯০তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে এই বিনিয়োগের সীমা ছিল ৩০ লাখ টাকা, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
সংশোধিত এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিএসইর সেকেন্ডারি মার্কেটে ন্যূনতম ১০ লাখ টাকার পোর্টফোলিও থাকলে তারা ‘কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর’ হিসেবে গণ্য হবেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে বিএসইসি তাদের ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বরের নির্দেশিকা সংশোধন করতে যাচ্ছে।
বিএসইসির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগের কমিশনের সময় আইনের মূল বিধিমালার সঙ্গে নির্দেশনার যে অসঙ্গতি তৈরি হয়েছিল, বর্তমান কমিশন তা দূর করে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্তি নিরসনে এই উদ্যোগ নিয়েছে।
মূলত ২০১৮ সালে প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ থাকলেই ক্ষুদ্র মূলধনী কোম্পানিতে বিনিয়োগের সুযোগ ছিল। কিন্তু তৎকালীন শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন একটি পৃথক নির্দেশনার মাধ্যমে এই সীমা বাড়িয়ে ৩০ লাখ টাকা করেছিল। এর ফলে আইনের মূল স্পিরিটের সঙ্গে নির্দেশনার অমিল তৈরি হয় এবং বাজারে লেনদেনের গভীরতা কমে যায়। বর্তমান কমিশন এখন মূল বিধিমালার সঙ্গে সমন্বয় করে পুনরায় ১০ লাখ টাকার সীমা নির্ধারণ করেছে।
এসএমই বোর্ড মূলত ৫ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত পরিশোধিত মূলধন সম্পন্ন কোম্পানিগুলোর জন্য মূলধন সংগ্রহের একটি বিকল্প মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ৩০ লাখ টাকার শর্তটি আইনের সাথে সাংঘর্ষিক ছিল এবং এটি বাজারের তারল্য কমিয়ে দিয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিনিয়োগকারীদের এসএমই শেয়ারে অংশগ্রহণ সহজ হবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির হয়ে থাকা এই প্ল্যাটফর্মে লেনদেন বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে চালুর পর থেকেই এসএমই বোর্ড নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগের সীমা ৫০ লাখ টাকা থাকলেও পরে তা ২০ লাখ এবং সবশেষে ৩০ লাখ করা হয়েছিল। এই ঘন ঘন পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়। ২০২৫ সালে এসএমই সূচক ‘ডিএসএমইএক্স’ প্রায় ২১ শতাংশ কমে ৮৫৫ পয়েন্টে নেমে আসে এবং দৈনিক গড় লেনদেন মাত্র ৫ কোটি টাকায় ঠেকে। নতুন এই নীতিমালার ফলে ২০২৬ সালে এসএমই বোর্ড আবার প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে আশা করছে বাজার সংশ্লিষ্টরা।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বাংলাদেশকে ৩০৫ রানের লক্ষ্য দিল আফগানিস্তান, জবাবে ১৬৯ রান
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- এসএসসি-এইচএসসিতে ফেল করলে ফের পরীক্ষা, এরপর কারিগরি শিক্ষা
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- শনিবার ঢাকায় বন্ধ যেসব মার্কেট ও দোকানপাট
- খুলনায় ৩০ কেজি ধানে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ অক্টোবর)
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন