ঢাকা, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭ পৌষ ১৪৩২

২০২৫ সালে শেয়ারবাজারে বড় কোম্পানিগুলোর বড় দুর্দিন

২০২৫ ডিসেম্বর ৩১ ২৩:৪৭:৫৮

২০২৫ সালে শেয়ারবাজারে বড় কোম্পানিগুলোর বড় দুর্দিন

২০২৫ সালে শেয়ারবাজারে বড় কো

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৫ সালে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা গেছে। বড় বড় কোম্পানিগুলোর প্রফিট বা আয়ের সাথে তাদের শেয়ারের দামের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক কোম্পানির আয় বাড়লেও বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটে শেয়ারের দাম হুহু করে কমেছে। ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের ‘পারফরম্যান্স রিভিউ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সামগ্রিক লেনদেনে এক ধরনের স্থবিরতা কাজ করেছে। মার্কিন শুল্ক আরোপের হুমকি, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, ব্যাংক খাতের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীরা ছিলেন অত্যন্ত সতর্ক। যার প্রফলস্বরূপ, বছরের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬.৭ শতাংশ কমেছে এবং বাজারের মোট মূলধন কমেছে প্রায় ৯.৯ শতাংশ।

আলোর মুখ দেখেছে যারা

বাজারের এই মন্দার মাঝেও ‘আউটপারফরমার’ হিসেবে চমক দেখিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। ২০২৫ সালে ব্যাংকটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৪৫ শতাংশ, যার পেছনে মূল কারণ ছিল জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৯ শতাংশ প্রফিট বৃদ্ধি। বহুজাতিক কোম্পানি মারিকো বাংলাদেশ-এর শেয়ারের দামও বেড়েছে ১৭ শতাংশ, যেখানে তাদের প্রফিট বেড়েছে ১৪.৩ শতাংশ।

মুনাফা বাড়লেও দাম কমেছে যেখানে: সবচেয়ে বড় অবাক করা তথ্য হলো স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ক্ষেত্রে; কোম্পানিটি ১৮.৪ শতাংশ প্রফিট গ্রোথ দেখালেও তাদের শেয়ারের দাম কমেছে ৮.৮ শতাংশ। একইভাবে রবি আজিয়াটার প্রফিট ৫৪.৫ শতাংশ বাড়লেও শেয়ারের দাম ছিল প্রায় স্থবির। অন্যদিকে ওয়ালটন ও ইউনাইটেড পাওয়ারের মতো বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোও বিনিয়োগকারীদের টানতে ব্যর্থ হয়েছে।

ধস নেমেছে যেসব হেভিওয়েট শেয়ারে

কয়েকটি বড় কোম্পানির ব্যবসায়িক মন্দা তাদের শেয়ারের দামেও বড় প্রভাব ফেলেছে। গ্রামীণফোনের প্রফিট ২৩ শতাংশ কমার পাশাপাশি শেয়ারের দাম কমেছে ২০ শতাংশের বেশি। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বিএটিবিসি) বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে; তাদের প্রফিট ৪৫.৫ শতাংশ কমায় শেয়ারের দাম কমেছে ৩২.৪ শতাংশ। বার্জার পেইন্টসের শেয়ারের দামও প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

খাতওয়ারি চিত্র

সেক্টরগুলোর মধ্যে সিরামিক এবং সাধারণ বীমা খাত সূচকের চেয়ে ভালো করেছে। অন্যদিকে, নন-ব্যাংক আর্থিক খাত ছিল বছরের সবচেয়ে বাজে পারফরমার। টেক্সটাইল, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং ওষুধ খাত বাজারের গড় হ্রাসের তুলনায় কিছুটা ভালো অবস্থানে থাকলেও টেলিকম, খাদ্য এবং প্রকৌশল খাত বাজারের গতির সাথে তাল মেলাতে পারেনি। সামষ্টিক অর্থনীতির কিছু সূচক উন্নতির পথে থাকলেও ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং খেলাপি ঋণের দুশ্চিন্তা বিনিয়োগকারীদের এখনো দ্বিধায় রেখেছে।

এএসএম/

ম্পানিগুলোর বড় দুর্দিন

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত