ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
আবাসন খাতে তিন হাজার কোটি টাকার তহবিল চায় রিহ্যাব
নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ বাড়ায় দেশের আবাসন খাতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতিতে নির্মাণ কার্যক্রম সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তিন হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল সহায়তা চেয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। একই সঙ্গে গৃহঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান রিহ্যাবের সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান। বৈঠকে আবাসন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়।
রিহ্যাব সভাপতি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের আবাসন শিল্পেও পড়ছে। এ অবস্থায় খাতটিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। সে কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তিন হাজার কোটি টাকার তহবিল সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, গভর্নর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন এবং ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্যতম। কিন্তু বর্তমানে গৃহঋণের উচ্চ সুদের কারণে অনেক মানুষের জন্য বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে গৃহঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রিহ্যাবের পক্ষ থেকে বৈঠকে আরও কয়েকটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিনির্ভর নির্মাণ প্রকল্পে বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা প্রদান। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ অর্থায়নের ব্যবস্থা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, রাজধানী ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা শহরে কম সুদে আবাসন ঋণের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। এতে রাজধানীর ওপর চাপ কমবে এবং সারাদেশে পরিকল্পিত নগরায়ণ সম্ভব হবে।
রিহ্যাবের তথ্য অনুযায়ী, দেশের আবাসন খাত সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৫০টির বেশি শিল্প খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকায় এই খাতকে অনুৎপাদনশীল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং এখানে উল্লেখযোগ্য কোনো শ্রমিক অসন্তোষও নেই। তাই আবাসন ও নির্মাণ খাতকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রিহ্যাব মনে করে, তাদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা হলে আবাসন শিল্প আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা সহজ হবে। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা করছে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ সেপ্টেম্বর)
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে যা বলছেন কর্মকর্তারা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত