ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
আবাসন খাতে তিন হাজার কোটি টাকার তহবিল চায় রিহ্যাব
নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ বাড়ায় দেশের আবাসন খাতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতিতে নির্মাণ কার্যক্রম সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তিন হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল সহায়তা চেয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। একই সঙ্গে গৃহঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান রিহ্যাবের সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান। বৈঠকে আবাসন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়।
রিহ্যাব সভাপতি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের আবাসন শিল্পেও পড়ছে। এ অবস্থায় খাতটিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। সে কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তিন হাজার কোটি টাকার তহবিল সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, গভর্নর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন এবং ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্যতম। কিন্তু বর্তমানে গৃহঋণের উচ্চ সুদের কারণে অনেক মানুষের জন্য বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে গৃহঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রিহ্যাবের পক্ষ থেকে বৈঠকে আরও কয়েকটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিনির্ভর নির্মাণ প্রকল্পে বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা প্রদান। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ অর্থায়নের ব্যবস্থা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, রাজধানী ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা শহরে কম সুদে আবাসন ঋণের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। এতে রাজধানীর ওপর চাপ কমবে এবং সারাদেশে পরিকল্পিত নগরায়ণ সম্ভব হবে।
রিহ্যাবের তথ্য অনুযায়ী, দেশের আবাসন খাত সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৫০টির বেশি শিল্প খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকায় এই খাতকে অনুৎপাদনশীল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং এখানে উল্লেখযোগ্য কোনো শ্রমিক অসন্তোষও নেই। তাই আবাসন ও নির্মাণ খাতকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রিহ্যাব মনে করে, তাদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা হলে আবাসন শিল্প আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা সহজ হবে। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা করছে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা