ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৬০০ মৃ'ত্যু, শতশত নিখোঁজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশে টানা বর্ষণ, মৌসুমি বৃষ্টি এবং একের পর এক ঝড়ের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৬০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া শতশত মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এই খবরটি দিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
বন্যা ও ভূমিধসের প্রভাবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কায় লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু এলাকা এখনও পানির নিচে তলিয়ে আছে। শ্রীলঙ্কার সরকার ইতিমধ্যে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে বুধবার থেকে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে হাজার হাজার স্থাপনা প্লাবিত হয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) পর্যন্ত দেশটিতে ৩০০ জনের বেশি মারা গেছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, আরও শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। হাজারো মানুষ ছাদ বা উঁচু স্থানে আটকে আছেন এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজে বিলম্ব হচ্ছে।
থাইল্যান্ডে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১৬০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মালয়েশিয়ায়ও কয়েকজনের মৃত্যু ঘটেছে। শ্রীলঙ্কায় সাইক্লোন ‘ডিটওয়াহর’-এর তাণ্ডবে ১৩০ জনের বেশি মারা গেছেন এবং প্রায় ১৭০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
একই সময়ে, ইন্দোনেশিয়ায় বিরল ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ‘সেনিয়ার’ ব্যাপক ভূমিধস ও বন্যার সৃষ্টি করেছে। আচেহ প্রদেশের বাসিন্দা আরিনি আমালিয়া বলেন, “পানি এত দ্রুত বাড়ছিল যে সেকেন্ডের মধ্যেই রাস্তা ও বাড়িতে ঢুকে পড়ে। একদিনের মধ্যেই আমাদের বাড়ি পুরোপুরি ডুবে গেছে।”
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় সংখলা প্রদেশে পানি ৩ মিটার পর্যন্ত উঠে গেছে। এখানে অন্তত ১৪৫ জন মারা গেছেন, যা দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে পড়ে। মোট ১০টি প্রদেশে ৩.৮ মিলিয়নের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাট ইয়াই শহরে একদিনে ৩৩৫ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে—৩০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। পানির নেমে যাওয়ার পর মৃত্যু সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরের একটি হাসপাতালে মরদেহ রাখার স্থান না থাকার কারণে সেগুলো রেফ্রিজারেটেড ট্রাকে সংরক্ষণ করতে হয়েছে। হাট ইয়াইয়ের বাসিন্দা থানিতা খিয়াওহম বলেন, “আমরা সাত দিন ধরে পানিতে আটকে ছিলাম, কেউ সাহায্য করতে আসেনি।”
থাই সরকার পরিবারপ্রতি মৃতদের জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ বাত (প্রায় ৬২ হাজার মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় পারলিস অঙ্গরাজ্যের কিছু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে।
শ্রীলঙ্কাও সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম ভয়াবহ আবহাওয়া বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দেশটিতে ১৫,০০০টির বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং ৭৮,০০০-এর বেশি মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই চরম আবহাওয়ার কারণ হিসেবে আবহাওয়াবিদরা ফিলিপাইনে সৃষ্ট টাইফুন ‘কোটো’ এবং মালাক্কা প্রণালিতে বিরলভাবে গঠিত সাইক্লোন ‘সেনিয়ার’-এর পারস্পরিক প্রভাবকে দায়ী করেছেন। প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অঞ্চলে বর্ষা মৌসুম সক্রিয় থাকে।
কেএমএ
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার রায়ের মৃ’ত্যু
- সকালে না রাতে, কখন গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো?
- স্কলারশিপ দিচ্ছে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল আজই
- দেশে সোনার দামে বড় পতন
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- নবনিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য মোর্শেদ হাসান খানকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কা সিরোহী আর নেই