ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

বাংলাদেশে আমদানি কমায় ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায় ধস

২০২৫ নভেম্বর ২৮ ১৮:১৯:৩৪

বাংলাদেশে আমদানি কমায় ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায় ধস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পেঁয়াজের প্রধান ক্রেতা বাংলাদেশ এখন আগের মতো দেশটি থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে না। একইভাবে সৌদি আরবও ভারত থেকে পেঁয়াজের সরবরাহ বন্ধ করেছে। বর্তমানে এই দুই দেশই পাকিস্তান ও চীনের মতো বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকছে, যা ভারতের পেঁয়াজ রফতানিকারকদের জন্য বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে ভারতের পেঁয়াজ চাষিদের অবস্থান ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এবং এ পরিস্থিতির জন্য মূল দায়ভার ভারত নিজেই বহন করছে। স্থানীয় বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে একাধিকবার পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কারণে আমদানিকারী দেশগুলো বিকল্প বাজার খুঁজেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন, ভারতের পেঁয়াজের বীজ ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বি দেশগুলো উৎপাদন বাড়াচ্ছে এবং নিজেদের স্বনির্ভর করছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এক সময় ভারতের মোট পেঁয়াজ রফতানির প্রায় তিন-চতুর্থাংশই বাংলাদেশে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু গত আট মাসে বাংলাদেশ থেকে আমদানি খুবই কম হয়েছে, যদিও সেখানে পেঁয়াজের দাম আগের তুলনায় তিনগুণ বেড়েছে। একইভাবে, সৌদি আরবও গত প্রায় এক বছর ধরে ভারত থেকে পেঁয়াজ কিনছে না।

রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, ভারতের পেঁয়াজ বীজ অবৈধভাবে অন্যান্য দেশগুলোতে চলে যাচ্ছে। এর ফলে আমদানিকারক দেশগুলো স্বনির্ভর হয়ে উঠছে, যা ভারতের বাজারে আধিপত্যকে দুর্বল করছে। অজিত শাহ নামের এক পেঁয়াজ আমদানিকারক ইকোনমিক টাইমসকে বলেছেন, “আমাদের পেঁয়াজের গুণমান অনুযায়ী ভালো দাম পাওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু রফতানি নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে ছিলাম না। তখন ক্রেতারা বিকল্প খুঁজেছে এবং এখন তারা কেবল দামের ভিত্তিতে পেঁয়াজ কিনছে।”

ইকোনমিক টাইমস জানায়, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো ছয় মাসের জন্য পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত। এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আরও পাঁচ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। এর ফলে ভারতের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোতে দাম বেড়ে যায়। ২০২০ সালে বাংলাদেশ ভারতের কাছে একটি কূটনৈতিক নোট পাঠায়, যাতে রফতানিতে ঘনঘন পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

বর্তমানে স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশ ভারত থেকে আর পেঁয়াজ আমদানি করছে না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ৭.২৪ লাখ টন পেঁয়াজ রফতানি করেছিল, যা মোট রফতানির ৪২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ মাত্র ১২,৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে।

রফতানিকারকরা মনে করেন, বারবার রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াই প্রধান কারণ যার কারণে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব ট্রেডের সদস্য পাশা প্যাটেল বলেছেন, “আমরা শুধু ঐতিহ্যগত ক্রেতাদের হারাইনি, তারা ভারতের পেঁয়াজ বীজ ব্যবহার করে নিজেরা স্বনির্ভরও হয়ে উঠেছে।”

সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ কিনছে না। রফতানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করে ভারত সরকার বিষয়টি যাচাই করছে। সৌদি আরব ইয়েমেন ও ইরান থেকে কমদামে পেঁয়াজ পাওয়ার কারণে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ থেকে সরে এসেছে। একইভাবে ফিলিপাইনে চীনা পেঁয়াজ না থাকলে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হয়।

কেএমএ

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত