ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

ব্যাংক একীভূতকরণের বলি বিনিয়োগকারীরা, দায়মুক্ত নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষকরা

২০২৫ নভেম্বর ০৯ ০০:৪৬:৫৪

ব্যাংক একীভূতকরণের বলি বিনিয়োগকারীরা, দায়মুক্ত নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণের (মার্জার) ফলে এই ব্যাংকগুলোর শেয়ারহোল্ডার এবং আমানতকারীরাই এর মাশুল দিচ্ছেন। কিন্তু ব্যাংকের পতনের জন্য যারা দায়বদ্ধ বলে বিবেচিত—নিয়ন্ত্রক সংস্থা, নিরীক্ষক (অডিটর) এবং ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি—তারা দায়মুক্ত থাকছেন বলে মন্তব্য করেছেন ডিএসই ব্রোকার্স' অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)-এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

একটি প্রথম শ্রেণির গণমাধ্যমকে দেওয়াএক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই ব্যাংকগুলোর শোচনীয় অবস্থা হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), অর্থ মন্ত্রণালয়, নিরীক্ষক, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি এবং বাজার মধ্যস্থতাকারীসহ গোটা তত্ত্বাবধান চেইনের সম্মিলিত ব্যর্থতার ফল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, "এখনও আমরা নিয়ন্ত্রকদের কোনো দায় নিতে বা মৌখিকভাবে দায় স্বীকার করতে দেখিনি। এমনটি যাতে আর না ঘটে, তার জন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতেও দেখিনি। উল্টো শেয়ারহোল্ডার ও আমানতকারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন"।

সম্প্রতি ব্যাংক রেজোলিউশন অর্ডিন্যান্স ২০২৫ এর অধীনে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারের নেট সম্পদ মূল্য নেতিবাচক হয়ে যাওয়ায়, নতুন সত্তায় শেয়ারহোল্ডারদের দাবি নাকচ করে দিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জগুলো তাদের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করেছে।

ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, এই প্রক্রিয়াটি মোটেও মার্জার অ্যান্ড অ্যাকুইজিশন অ্যাক্ট অনুযায়ী একীভূতকরণ মনে হচ্ছে না। তিনি এটিকে 'বেইলাউট' বা উদ্ধার প্রক্রিয়া হিসেবে আখ্যা দেন।

তিনি যুক্তি দেন: "সঠিক একীভূতকরণে, ব্যাংকগুলো একত্রে বসে একটি ফর্মুলা ঠিক করবে এবং শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন চাইবে। এর কিছুই ঘটেনি। এটা বরং একটি বেইলাউট। সরকার জনগণের তহবিল ব্যবহার করে পাঁচটি দেউলিয়া হয়ে যাওয়া ব্যাংককে উদ্ধার করার চেষ্টা করছে।"

তিনি আরও বলেন, বেইলাউটের ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতির প্রয়োজন হয় না, কারণ এই পরিস্থিতিতে তাদের শেয়ারের আর কোনো মূল্য থাকে না।

সাইফুল ইসলামের মতে, যারা ব্যাংকগুলোর পতনের তদারকি করেছেন, সেই অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিরাই এই উদ্ধার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, "ব্যাংকের পরিচালকরা তহবিল সরিয়ে নিয়েছেন এবং তারাই এখন সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী। এই অনিয়মগুলোর সাক্ষী যারা, তারা কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই পার পেয়ে যাচ্ছেন, আর সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা এর বোঝা বহন করছেন"।

তবে, ডিবিএ সভাপতি দায়িত্বজ্ঞানহীন বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীদেরও পরোক্ষভাবে দায় দেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদিত আর্থিক বিবরণের ভিত্তিতে অনেকে বিনিয়োগ করলেও, বিনিয়োগ করার আগে তাদের দায়িত্বশীলভাবে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত ছিল। এই প্রেক্ষাপটে তিনি সরকারকে বিশেষ বিবেচনায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ইক্যুইটি সোয়াপের মাধ্যমে নতুন ব্যাংকে প্রতি দশটি পুরানো শেয়ারের জন্য এক বা দুটি নতুন শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

সাইফুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দেন, এই পাঁচটি ব্যাংক সমস্যার শেষ নয়, ভবিষ্যতে আরও দুর্বল ব্যাংক সামনে আসতে পারে। তিনি মনে করেন, সব দুর্বল ব্যাংককে নিয়ে একটি বিস্তৃত বেইলাউট করা হলে আর্থিক খাতে আরও বেশি আস্থা ফিরত। তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজারেও এমন কিছু কোম্পানি রয়েছে, যাদের অবস্থাও সমানভাবে খারাপ, তবুও তাদের শেয়ার উচ্চ মূল্যে লেনদেন হচ্ছে।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

৩ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে প্রাইম ব্যাংক; চাঙ্গা হবে এসএমই ও কৃষি খাত

৩ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে প্রাইম ব্যাংক; চাঙ্গা হবে এসএমই ও কৃষি খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান প্রাইম ব্যাংক পিএলসি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থা ‘ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’... বিস্তারিত