ঢাকা, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২
কর আর সুদের চাপে কোণঠাসা অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার
আবু তাহের নয়ন:শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত শীর্ষস্থানীয় জুতা প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের রফতানি আয় বাড়ালেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রফতানি খাত থেকে মাত্র ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, করের উচ্চ ব্যয় এবং ব্যাংক ঋণের ক্রমবর্ধমান সুদের কারণে রফতানি খাত থেকে তাদের লাভ কমে এমন তলানিতে এসে ঠেকেছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
রফতানি ও মুনাফার ব্যতিক্রমী চিত্র
আলোচ্য অর্থবছরে কোম্পানিটির রফতানি আয় ৩৮% বেড়ে ৬৬৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪৮২ কোটি টাকা। এই বিপুল রফতানি বৃদ্ধির বিপরীতে মুনাফা হ্রাসের চিত্রটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। এর আগে ২০২৩ অর্থবছরে কোম্পানিটির রফতানি মুনাফা ছিল ৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং ২০২৪ অর্থবছরে ছিল ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
খরচের বোঝা সর্বোচ্চ
মুনাফা কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে করের চাপ এবং ব্যাংক ঋণের সুদকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি ১৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আয়কর হিসেবে ব্যয় করেছে, যা তাদের কর-পূর্ববর্তী মুনাফার ৯৭%। একইসঙ্গে, ব্যাংক ঋণ বাবদ সুদের খরচ ১৪% বেড়ে ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।
কোম্পানি সূত্র জানিয়েছে, রফতানি আয়ের উপর উৎসে কর কাটার পদ্ধতির কারণেই রফতানি মুনাফা এত দ্রুত কমেছে। সূত্রটি বলেছে, "এই উৎসে কর রফতানি আয়ের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, যা কারণে করের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেশি মনে হচ্ছে।"
একজন শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও জানান, জুতা রফতানিকারকদের ১% হারে উৎসে কর দিতে হয়, যা সামঞ্জস্যযোগ্য হলেও ফেরতযোগ্য নয়। ফলে চূড়ান্ত আয়কর কম হলেও উৎসে করের পুরো অংশটিই চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচিত হয়, যা রফতানিকারকদের জন্য একটি বড় সমস্যা।
সামগ্রিক ব্যবসার পরিস্থিতি
রফতানির পাশাপাশি অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়ও চ্যালেঞ্জ ছিল। স্থানীয় বিক্রি থেকে রাজস্ব ৯% বেড়ে ১ হাজার ১১০ কোটি টাকা হলেও, দেশীয় ব্যবসা থেকে মুনাফা ৮% কমে ১৩ কোটি ১৮ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
রফতানি ও অভ্যন্তরীণ বাজার মিলিয়ে কোম্পানিটির মোট রাজস্ব ১ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮% বেশি। কিন্তু উচ্চ কর এবং ঋণের সুদের সম্মিলিত প্রভাবে কোম্পানির মোট মুনাফা ২৩% কমে ১৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।
ডিভিডেন্ড ঘোষণা এবং বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
২৯ সেপ্টেম্বর, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের পরিচালনা পর্ষদ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ৫০% ডিভিডেন্ড (২৫% ক্যাশ এবং ২৫% স্টক) সুপারিশ করেছে, যা গত বছরের ৩৫% ক্যাশ এবং ১০% স্টক ডিভিডেন্ডের চেয়ে বেশি। আগামী ২৬ নভেম্বর কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় এটি অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।
শিল্প বিশ্লেষকরা বলছেন, অ্যাপেক্সের শক্তিশালী রফতানি প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক বাজারে তাদের সক্ষমতা দেখালেও, কোম্পানির এই আর্থিক পারফরম্যান্সটি রফতানিমুখী শিল্পগুলোর ক্রমবর্ধমান খরচ, করের বোঝা এবং নীতিগত জটিলতার কারণে মুনাফা ধরে রাখার ক্ষেত্রে যে গুরুতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, তারই ইঙ্গিত দেয়।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
- শুরু হচ্ছে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’, স্কোয়াড ও সূচি ঘোষণা
- শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৩ ফেব্রুয়ারি)
- ঢাবির ১৯ শিক্ষার্থী পেলেন ‘টিএফপি ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
- দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিম চালু
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: জেনে নিন সরাসরি দেখার উপায়
- ১০০ টাকা প্রাইজ বন্ডের ১২২তম ড্র অনুষ্ঠিত, জেনে নিন বিজয়ী নম্বরগুলো
- কে এই কু'খ্যাত জেফ্রি এপস্টেইন?
- গ্রামীণফোনের ২১৫ শতাংশ ফাইনাল ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- এভারকেয়ারে বিশেষ ছাড়ে চিকিৎসা পাবেন ঢাবি অ্যালামনাই সদস্যরা
- ঢাবির 'বি' ইউনিটের পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, পরিবর্তন ৮ জনের
- বিমস্টেকও ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর মধ্যে বিশেষ বৈঠক সম্পন্ন
- উপবৃত্তিতে বড় পরিবর্তন, খুলল নতুন সুযোগ