ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
পুতিন-ট্রাম্প শীর্ষ বৈঠকের পর আবারও সম্পর্কে তিক্ততা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার গভীরে দূরপাল্লার হামলায় ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করলে তা মস্কো-ওয়াশিংটনের সম্পর্ক পুরোপুরি ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিনের আলাস্কায় শীর্ষ বৈঠকের মাত্র দুই মাস পর রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আবারও তিক্ততার দিকে মোড় নিয়েছে। ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা এবং ড্রোন ন্যাটোর আকাশসীমায় প্রবেশের অভিযোগের মধ্যে ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
ট্রাম্প সম্প্রতি পুতিনের শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে না পারায় হতাশা ব্যক্ত করে রাশিয়াকে "কাগুজে বাঘ" আখ্যা দিয়েছেন। এর জবাবে পুতিন পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ন্যাটোই কি "কাগুজে বাঘ" নয়, যারা রাশিয়ার অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি?
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত মাসে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ওয়াশিংটন ইউক্রেনের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অনুরোধ বিবেচনা করছে, যা রাশিয়ার গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অস্পষ্ট। পুতিন তার ভিডিও বার্তায় বলেছেন, "এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হলে তা আমাদের সম্পর্ক ধ্বংস করবে অথবা অন্তত ইতিবাচক যে প্রবণতাগুলো দেখা যাচ্ছিল, তা একেবারে থেমে যাবে।"
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গত সপ্তাহে প্রতিবেদন করেছিল যে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। যদিও রয়টার্সকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইউক্রেনে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নয়, কারণ এসব ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার, যার অর্থ ইউক্রেন এটি পেলে পুরো রাশিয়া এবং ক্রেমলিনও এর আওতায় চলে আসবে। পুতিন বৃহস্পতিবার বলেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার সম্ভব নয়, যা উত্তেজনার এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে রাশিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভূপাতিত করে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করবে।
পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধকে মস্কো ও পশ্চিমাদের সম্পর্কের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেন, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার পর পশ্চিমারা ন্যাটো সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাশিয়াকে অপমান করেছে। অন্যদিকে, পশ্চিম ইউরোপীয় নেতারা ও ইউক্রেন এই যুদ্ধকে রাশিয়ার সাম্রাজ্যবাদী ভূমি দখলের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- তিন ছাত্রদল নেতাকে ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দিল সরকার
- জাবিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি আবেদনের সময়সূচি প্রকাশ
- শাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. খায়রুল ইসলাম
- রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
- দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?
- আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন
- আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের পদযাত্রা
- সোমবার টানা ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- ঢাবিতে মাদারীপুর সদর ছাত্র কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা
- শোলাকিয়া থেকে জাতীয় ঈদগাহ কোথায় কখন ঈদের জামাত, জেনে নিন বিস্তারিত
- ৭ কোটি মানুষ চরম সংকটের মুখে রয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী
- কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব সুসংবাদ শুনতে পারে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ
- জাল সনদে নিয়োগ: ৬৩ শিক্ষককে শোকজ মাউশির