ঢাকা, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
দ্বিরাষ্ট্র সমাধান কি শান্তি প্রতিষ্ঠার চাবিকাঠি?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৯৯৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত। এই দিন ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের শীর্ষ নেতারা একে অপরের অস্তিত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেন এবং দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পাশাপাশি থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সহযোগিতার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সংঘাত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।
এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি “অসলো চুক্তি” নামে পরিচিত। নরওয়ের রাজধানী অসলোয় গোপন বৈঠকের মাধ্যমে এই সমঝোতায় পৌঁছানো হয়, যা ১৯৯৩ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল। সেই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসের লবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের উপস্থিতিতে ইৎজাক রাবিন ও ইয়াসির আরাফাত করমর্দন করে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
প্রথম অসলো চুক্তির দুই বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মিশরের তাবায় দ্বিতীয় অসলো চুক্তি সই হয়। চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল শান্তি প্রক্রিয়া চালিয়ে নেওয়া এবং ইসরায়েলি দখলাধীন ফিলিস্তিন ভূমিতে দুটি রাষ্ট্র গঠন করা। এতে পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুসালেম।
অসলো চুক্তির জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইৎজাক রাবিন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিমন পেরেস এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের নেতা ইয়াসির আরাফাতকে পরের বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে দ্বিতীয় চুক্তির স্বাক্ষরের অল্প সময়ের মধ্যেই ইসরায়েলের ডানপন্থী ইহুদি শিক্ষার্থী ইগাল আমির রাবিনকে হত্যা করেন।
অসলো চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা সত্ত্বেও দেশ দুটির মধ্যে শান্তি স্থাপন পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ১৯৬৭ সালের সীমান্তকে অস্থায়ী হিসেবে দেখে এবং ইসরায়েলের অস্তিত্ব মেনে নেয় না। অন্যদিকে, ইসরায়েলের বিভিন্ন সরকার ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রও এখনো ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনের অধিকার স্বীকৃতির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে।
অসলো চুক্তির প্রেক্ষাপটে “দুই রাষ্ট্র সমাধান” ধারণা বিশ্ব রাজনীতিতে পরিচিতি পেয়েছে। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসরায়েল জাতিসংঘে স্বীকৃত হলেও, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র স্বীকৃতি তখনও দেওয়া হয়নি। এখন এই সমাধানের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এমজে
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম চীনের ফুটবল ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- শেষ হলো বাংলাদেশ বনাম উত্তর কোরিয়ার ফুটবল ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- বাংলাদেশ বনাম চীনের ফুটবল ম্যাচ: কবে, কখন, কোথায়-জানুন সময়সূচি
- উৎপাদন বন্ধ থাকায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামল তালিকাভুক্ত কোম্পানি
- বাংলাদেশ বনাম চীন ফুটবল ম্যাচ: জেনে নিন ফলাফল
- জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করল সরকার
- ডুসাসের নেতৃত্বে জিসান-সাবরিন
- বিক্রিতে ধস, অথচ শেয়ার দরে উল্লম্ফন: জি কিউ বলপেনের রহস্য কী?
- ইরানে স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৮
- শিক্ষকরা ফেব্রুয়ারির বেতন বেতন পাবেন কবে, জানাল মাউশি
- আতঙ্ক কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই, সূচকের বড় লাফ
- দুবাই বিমানবন্দরে আটকা অভিনেত্রী, মোদির কাছে বাঁচার আকুতি
- ২৭ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের বিধ্বংসী হামলা
- চলেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা: ম্যাচটি সরাসরি দেখুন এখানে (LIVE)
- বাংলাদেশ বনাম চীন: আজকের ম্যাচ লাইভ দেখার সহজ উপায়