ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
দ্বিরাষ্ট্র সমাধান কি শান্তি প্রতিষ্ঠার চাবিকাঠি?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৯৯৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত। এই দিন ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের শীর্ষ নেতারা একে অপরের অস্তিত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেন এবং দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পাশাপাশি থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সহযোগিতার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সংঘাত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।
এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি “অসলো চুক্তি” নামে পরিচিত। নরওয়ের রাজধানী অসলোয় গোপন বৈঠকের মাধ্যমে এই সমঝোতায় পৌঁছানো হয়, যা ১৯৯৩ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল। সেই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসের লবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের উপস্থিতিতে ইৎজাক রাবিন ও ইয়াসির আরাফাত করমর্দন করে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
প্রথম অসলো চুক্তির দুই বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মিশরের তাবায় দ্বিতীয় অসলো চুক্তি সই হয়। চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল শান্তি প্রক্রিয়া চালিয়ে নেওয়া এবং ইসরায়েলি দখলাধীন ফিলিস্তিন ভূমিতে দুটি রাষ্ট্র গঠন করা। এতে পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুসালেম।
অসলো চুক্তির জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইৎজাক রাবিন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিমন পেরেস এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের নেতা ইয়াসির আরাফাতকে পরের বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে দ্বিতীয় চুক্তির স্বাক্ষরের অল্প সময়ের মধ্যেই ইসরায়েলের ডানপন্থী ইহুদি শিক্ষার্থী ইগাল আমির রাবিনকে হত্যা করেন।
অসলো চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা সত্ত্বেও দেশ দুটির মধ্যে শান্তি স্থাপন পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ১৯৬৭ সালের সীমান্তকে অস্থায়ী হিসেবে দেখে এবং ইসরায়েলের অস্তিত্ব মেনে নেয় না। অন্যদিকে, ইসরায়েলের বিভিন্ন সরকার ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রও এখনো ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনের অধিকার স্বীকৃতির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে।
অসলো চুক্তির প্রেক্ষাপটে “দুই রাষ্ট্র সমাধান” ধারণা বিশ্ব রাজনীতিতে পরিচিতি পেয়েছে। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসরায়েল জাতিসংঘে স্বীকৃত হলেও, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র স্বীকৃতি তখনও দেওয়া হয়নি। এখন এই সমাধানের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এমজে
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচ: সরাসরি দেখা যাবে এখানে LIVE
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ফুটবল ম্যাচ, দেখুন একাদশ-দেখার উপায়
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোর ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ঢাবি শিক্ষককে বিয়ে করলেন দীপ্তি চৌধুরী
- বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের ফুটবল ম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন এখানে
- আজ বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- ঢাবির এসএম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুস সালাম
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- টাইমস হায়ার ও কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব