ঢাকা, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২

ট্রাম্পের 'শুল্ক' অবৈধ ঘোষণা, বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাবের শঙ্কা

২০২৫ আগস্ট ৩১ ২০:৫২:১৯

ট্রাম্পের 'শুল্ক' অবৈধ ঘোষণা, বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাবের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত শুল্ককে শুক্রবার (৩০ আগস্ট) দেশটির ফেডারেল আপিল আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছে। আদালতের রায় অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। মার্কিন আপিল আদালত জানিয়েছে, আমেরিকার সাথে বাণিজ্য রয়েছে এমন প্রায় প্রতিটি দেশের ওপর আরোপিত তথাকথিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ।

গত মে মাসে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের একটি রায়কেও আমেরিকান ফেডারেল আপিল আদালত বহাল রেখেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত ট্রাম্পের এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল যে, তিনি জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (আইইইপিএ) অধীনে এই শুল্ক অনুমোদন দিয়েছেন।

তবে, আদালত আপাতত ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক স্থগিত করেনি। এটি অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বহাল থাকবে, এই সময়ের মধ্যে সরকারকে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে, এটি প্রায় নিশ্চিত যে পুরো বিষয়টি আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে গড়াতে যাচ্ছে।

আদালত ৭-৪ ভোটে নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। বিচারকরা বলছেন, আইইইপিএ একজন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক, কর বা এ ধরনের কিছু আরোপের এত ক্ষমতা প্রদান করেনি।

ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে এই রায়ের সমালোচনা করে ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন যে, এই রায় অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট এবং দেশের জন্য বিপর্যয়। তিনি সতর্ক করেন যে, এই রায় বহাল থাকলে তা আক্ষরিক অর্থেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেবে।

আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) হলো কয়েক দশকের পুরনো একটি আইন, যা একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জাতীয় জরুরি অবস্থা বা বিদেশি বড় কোনো হুমকির পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা দেয়। ১৯৭৭ সালের এই আইন অনুযায়ী, একজন প্রেসিডেন্ট জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি বা অর্থনীতির জন্য অস্বাভাবিক এবং মারাত্মক হুমকি মোকাবিলার জন্য অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনও এই আইন ব্যবহার করেছেন। তবে, আপিল আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এই জরুরি আইন আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে এত বিস্তৃত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়নি, এই ক্ষমতা কংগ্রেসের রয়েছে।

আমেরিকার ফেডারেল আপিল আদালতের এই রায় ট্রাম্পের জন্য একটি বড় ধাক্কা এবং মার্কিন অর্থনীতিতে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে, যার রেশ বিশ্ববাজারেও ছড়াতে পারে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং লন্ডন বিজনেস স্কুলের অর্থনীতিবিদ ড. লিন্ডা ইউয়েহ বিবিসি রেডিও ফোরের টুডে প্রোগ্রামে বলেছেন, এখন বহু ব্যবসা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি গ্রহণ করবে কি না, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করবে এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় না আসা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ব্যবসা পরিচালনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নিতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে ধীর করে দিতে পারে।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। যদি সুপ্রিম কোর্ট আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত বাতিল করে, তাহলে এটি ট্রাম্পকে আরও কঠোরভাবে আইইইপিএ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে পারে।

শুল্ক নিয়ে এই মামলাটি এখন সম্ভবত সর্বোচ্চ মার্কিন আদালতে যাবে। ট্রাম্পও তার ট্রুথ সোশ্যালে আপিল আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের রায় ট্রাম্পের পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, উচ্চ আদালতে এমন উদাহরণও আছে যেখানে তারা প্রেসিডেন্টদের এমন নীতিগুলোর সমালোচনা করে রায় দিয়েছে যা কংগ্রেস দ্বারা সরাসরি অনুমোদিত ছিল না।

যদি সুপ্রিম কোর্ট আপিল আদালতের রায় বহাল রাখে, তাহলে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যে একটি আর্থিক অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। শুল্ক আরোপ করে আমেরিকা আমদানি করের মাধ্যমে যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে, তা ফেরত দিতে হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়াসহ কিছু দেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিগুলো হয়েছে, সেগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হবে। যদি সুপ্রিম কোর্টে আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, তাহলে চুক্তি ভঙ্গকারী হিসেবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব এবং খ্যাতিতে বিরাট আঘাত হানবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করলে এর ফলাফল হবে পুরোপুরি বিপরীত, তখন ট্রাম্প আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবেন।

এসপি

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত