ঢাকা, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২

নামাজহীন জীবন, তবু জান্নাতের নিশ্চয়তা

২০২৫ আগস্ট ৩১ ১৫:১৯:৩৭

নামাজহীন জীবন, তবু জান্নাতের নিশ্চয়তা

মানুষের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ কামনা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা এবং জান্নাতের চিরন্তন ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়া। কেউ দীর্ঘ ইবাদতের মাধ্যমে এ সৌভাগ্য অর্জন করে, আবার কেউ শেষ মুহূর্তের তাওবা বা শাহাদাতের বরকতে জান্নাতের সুসংবাদ পায়। সাহাবায়ে কেরামের জীবনে এমন কিছু বিস্ময়কর ঘটনা আছে যা আজও ঈমানদারদের হৃদয়ে আশার আলো জ্বালায়।

এমনই এক ঘটনা ঘটেছিল মদিনার ধনাঢ্য সাহাবি আমর ইবনে সাবিত ইবনে ওয়াকিশ ইবনে জুগবা ইবনে জা‘ঊরা আল-আনসারী (রা.)-এর জীবনে। তিনি ‘আমীর’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, কারণ তার সম্পদের মধ্যে সুদজনিত অর্থ ছিল। আশঙ্কা ছিল, ইসলাম গ্রহণ করলে হয়তো সম্পদ বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।

কিন্তু উহুদের যুদ্ধের দিন আল্লাহ তার অন্তরে ঈমানের আলো প্রবেশ করান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেন। পরে জানতে পারেন যে তার কওমের লোকেরা ইসলামের জন্য যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তখন তিনি যুদ্ধের সাজে সজ্জিত হয়ে উহুদের প্রান্তরের দিকে ছুটে যান।

মাত্র সেই দিনই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন—এ কারণে অনেক সাহাবি তাকে যুদ্ধে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু আমীর (রা.) নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে যোগ দেন এবং শেষ পর্যন্ত শাহাদাত বরণ করেন।

আশ্চর্যের বিষয়, তিনি কখনো নামাজ পড়ার সুযোগ পাননি, আল্লাহর দরবারে সেজদাহও করেননি। অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) তার ব্যাপারে ঘোষণা দিলেন—

إِنَّهُ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ“সে তো জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।”(ইবনে হিশাম, আস-সীরাহ; ইবনে আব্দুল বার, আল-ইস্তীআব)

এই ঘটনা প্রমাণ করে, জান্নাত কেবল বাহ্যিক আমলের ওপর নির্ভর করে না। বরং আন্তরিক ঈমান এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ সমর্পণের মাধ্যমেই আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়।

আল্লাহ আমাদেরও পরিপূর্ণ মুমিন হওয়ার তাওফিক দান করুন।

ইএইচপি

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত