ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

'বেশিরভাগ সবজি এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে'

ডুয়া নিউজ- জাতীয়
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১৯:৪২:৫৭
'বেশিরভাগ সবজি এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে'

রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে কোনো স্বস্তি ফিরছে না। বৃষ্টি-বন্যাসহ নানা অজুহাতে সবজির দাম বেড়েই চলেছে, যা সাধারণ মানুষের অস্বস্তি আরও বাড়াচ্ছে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরের কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, পরিচিত ২০ ধরনের সবজির দাম ৮০ টাকা বা তার বেশি, যেখানে ৭০ টাকার নিচে রয়েছে মাত্র ৫ ধরনের সবজি। শুধু সবজিই নয়, মাছ, মাংস, ডিম এবং মুদি দোকানের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

আজকের বাজারে ভারতীয় টমেটো ১৪০ টাকা, দেশি গাজর ৮০ টাকা, চায়না গাজর ১০০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ১২০ টাকা, কালো গোল বেগুন ১৪০-১৬০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা, উচ্ছা ১০০ টাকা, করল্লা ১০০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, পটল ৮০-১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৮০-২০০ টাকা এবং ধনেপাতা (মানভেদে) ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লাউ ৮০ টাকা। গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজির দাম কিছুটা কমেছে, যেমন ভারতীয় টমেটো, চায়না গাজর, লম্বা বেগুন, কালো গোল বেগুন, ঢেঁড়স, কাঁচা মরিচ এবং ধনেপাতা। তবে হাইব্রিড শসা ৭০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, চাল কুমড়া ৭০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতা মো. শাহ আলম জানান, বৃষ্টি-বন্যার কারণে সবজির দাম বাড়ে, আমদানি বাড়লে দাম কমতে পারে। তবে বেসরকারি চাকরিজীবী আফসার আহমেদ এবং ক্রেতা ফজলুল হক বলছেন, দাম কমেছে বলাটা ভুল, বেশিরভাগ সবজি এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

ক্রস জাতের পেঁয়াজ ৭৫-৮০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৮০ টাকা, সাদা ও লাল আলু ২০-২৫ টাকা, বগুড়ার আলু ৩৫-৪০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা, চায়না রসুন ১৫০-১৬০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, ভারতীয় আদা ১৬০-১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ এবং ভারতীয় আদার দাম কিছুটা কমলেও বগুড়ার আলুর দাম বেড়েছে।

ইলিশ মাছ আকার ও ওজন অনুযায়ী ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা, রুই মাছ ৩৮০-৬৫০ টাকা, কাতল ৪০০-৬০০ টাকা, কালিবাউশ ৪০০-১ হাজার টাকা, চিংড়ি ৮০০-১ হাজার ৪০০ টাকা, কাঁচকি ৬০০-৮০০ টাকা, কৈ ২৫০ টাকা, পাবদা ৪০০-৫০০ টাকা, শিং ৪০০-১ হাজার ৪০০ টাকা, টেংরা ৭০০-৮০০ টাকা, বেলে ৮০০-১ হাজার ৪০০ টাকা, মেনি ৫০০-৯০০ টাকা, বোয়াল ৫০০-১ হাজার ৪০০ টাকা এবং রূপচাঁদা ৮০০-দেড় হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংস ৭৮০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৬৫-১৭৫ টাকা, কক মুরগি ৩০০-৩১০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৯৫-৩০০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল ডিম প্রতি ডজন ১২৫-১৩০ টাকা, সাদা ডিম ১২০-১২৫ টাকা এবং হাঁসের ডিম ২৩৫-২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার, লেয়ার এবং দেশি মুরগির দাম কিছুটা কমলেও কক মুরগির দাম বেড়েছে। লাল ডিমের দামও কমেছে।

মুদি দোকানের পণ্যের দামে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। মোটা মসুর ডালের দাম ৫ টাকা কমে ১০৫ টাকা এবং এলাচের দাম ৫০ টাকা কমে ৪ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেট পোলাওয়ের চাল ১৫৫ টাকা, খোলা পোলাওয়ের চাল ৯০-১৩০ টাকা, ছোট মসুর ডাল ১৫৫ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারি ডাল ১২০ টাকা, বুটের ডাল ১২০ টাকা, ডাবলি ৬৫ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা এবং মাশকালাইয়ের ডাল ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৭২ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১১০ টাকা এবং খোলা চিনি ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত