ঢাকা, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: আলোচনায় কারা এবং কীভাবে ভোট?
নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হতেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন রাষ্ট্রপতি পদে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ ভূমিকা ও সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপি সরকার গঠন করে। সংসদ সদস্যরা ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দায়িত্ব নেন এবং তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বহাল রয়েছে। ফলে সাংবিধানিকভাবে পদটি শূন্য না হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি ওঠে। তবে বিএনপি শুরু থেকেই অপসারণের বিষয়ে আপত্তি জানায়। শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারও বর্তমান রাষ্ট্রপতির কাছেই শপথ নেয়।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ না হওয়া, পদত্যাগ বা অভিশংসন ছাড়া নতুন কেউ শপথ নিতে পারবেন না। সংবিধান বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই তিনটি অবস্থার যেকোনো একটি ঘটলেই কেবল রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হবে। আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, সংবিধানে স্পষ্টভাবে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার বিধান উল্লেখ রয়েছে এবং তা কার্যকর হলেই নতুন সংসদ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
গত ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা Reuters-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি সরে যেতে চাই,আমি সরে যেতে আগ্রহী। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’ তবে এখনো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি।
সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ দুইবার দায়িত্ব পালন করা যায়। রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে। প্রার্থী হতে হলে বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে তফসিল ঘোষণা করেন। একক প্রার্থী হলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয় না। আর একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ অধিবেশন চলাকালীন ভোট হয়। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে, মেয়াদ শেষজনিত কারণে পদ শূন্য হলে ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক বর্তমান ব্যবস্থায় পদটিকে ‘আলংকারিক’ বললেও রাজনৈতিক সংকটে এর গুরুত্ব বেড়ে যায়। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুসরণ করতে হয়।
জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার প্রস্তাব রয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতির কিছু নিয়োগ ক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে এজন্য সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য বলে মত দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আব্দুল মঈন খানের নাম বিভিন্ন মহলে উচ্চারিত হচ্ছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে দলীয়ভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগে রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে নতুন সরকার ও সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে সামনে এসেছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা-৮ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ১২ কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে কে?
- ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: কখন ও কীভাবে সরাসরি দেখবেন আজকের খেলা?
- ঢাকা-১৭ আসনে ১৮ কেন্দ্রের ফল: এগিয়ে তারেক রহমান
- ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: সরাসরি Live-এ খেলা দেখুন এখানে
- ঢাকা-৮ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ৩ কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে কে?
- কুমিল্লা-৪ আসনে ৪৬ কেন্দ্রের ফল: তিনগুণেরও বেশি ভোটে এগিয়ে হাসনাত
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: ৩৩ কেন্দ্রের ফলে এগিয়ে রুমিন ফারহানা
- পঞ্চগড়-১ আসনে ৮ কেন্দ্রের ফল: সারজিস আলম এগিয়ে
- ঢাকা-১৫ আসনে জয়ী জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
- ঢাকা-৯ আসনে দুই কেন্দ্রের ফলে এগিয়ে কে?
- ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শেষ, এক নজরে দেখে নিন ফলাফল
- ভোটের ফল পাওয়া যাবে কখন থেকে?
- ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ৮ কেন্দ্রের ফল: এগিয়ে মির্জা ফখরুল
- ২০২৬ সালে কোন দেশে কত ঘণ্টা রোজা?
- নতুন রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনায় ঢাবির সাবেক অধ্যাপকসহ যারা