ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

গাজায় নি-হ-ত সাংবাদিকের চিঠি পড়ে জাতিসংঘে কাঁদলেন রাষ্ট্রদূত

ডুয়া নিউজ- আন্তর্জাতিক
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১২:৫৫:২৭
গাজায় নি-হ-ত সাংবাদিকের চিঠি পড়ে জাতিসংঘে কাঁদলেন রাষ্ট্রদূত

ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মরিয়ম আবু দাগ্গার বিদায়ী চিঠি পড়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভায় আবেগে ভেঙে পড়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত আলজেরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি আমর বেনজামা।

গত সপ্তাহের শুরুতে গাজার নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে নিহত হন সাংবাদিক মরিয়ম আবু দাগ্গা। একই হামলায় আরও পাঁচ সাংবাদিকসহ ২০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। মৃত্যুর আগেই নিজের ১৩ বছর বয়সী ছেলে গাইথের উদ্দেশ্যে তিনি একটি আবেগঘন বার্তা লেখেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

চিঠিতে তিনি লেখেন, তিনি মারা গেলে যেন তার ছেলে কাঁদে না—বরং তার জন্য দোয়া করে। তিনি আরও লেখেন, বড় হয়ে ছেলে যদি কন্যাসন্তানের বাবা হন, তবে যেন তার নাম রাখেন মরিয়ম, নিজের মায়ের নামে।

জাতিসংঘে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আমর বেনজামা মরিয়মের ওই চিঠি পাঠ করে বলেন, এটি যে কোনো সরকারি বিবৃতির চেয়েও বেশি সত্য ও হৃদয়বিদারক। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মরিয়মের হাতে ছিল কেবল একটি ক্যামেরা, আর শরীরে ছিল প্রেস লেখা ভেস্ট। গাজার সত্যচিত্র প্রকাশ রুখতেই সাংবাদিকদের এভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

বেনজামা জানান, এখন পর্যন্ত ২৪৫ জন সাংবাদিক ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু গত আগস্টের শেষদিকেই ইসরায়েলি বাহিনী আরও ছয়জনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করেছে। নিহতদের হাতে ছিল কেবল শব্দ, ছবি ও সত্যের কণ্ঠস্বর, কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

ভাষণে তিনি তুলে ধরেন গাজার এক দুই বছরের ক্ষুধার্ত শিশু ইয়াজান আবু ফুলের করুণ দৃশ্য, যাকে বাবার কোলে চর্মসার ও অস্থিচর্মসার অবস্থায় দেখা গেছে। এই বাস্তবতা গাজার প্রতিদিনের করুণ চিত্র তুলে ধরে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বেনজামা তার বক্তব্যে গাজাকে জীবন্ত নরক হিসেবে অভিহিত করেন এবং নিরাপত্তা পরিষদকে সমালোচনা করে বলেন, এটি এখন কেবল শোক প্রকাশের থিয়েটারে পরিণত হয়েছে। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি চাপিয়ে দেওয়া, ব্যাপক মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানান।

এদিকে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানায়, গাজা জুড়ে দুর্ভিক্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সভায় ১৪টি সদস্য রাষ্ট্র ‘ক্ষুধাকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের’ নিন্দা জানায় এবং অবিলম্বে, নিঃশর্ত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়। তারা বন্দিদের মুক্তি এবং ত্রাণ সহায়তা বাড়ানোরও সুপারিশ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই ঘোষণায় সই করতে অস্বীকৃতি জানায়।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া উপত্যকায় খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আইসিসি ইতোমধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োযভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছে।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত