ঢাকা, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

নরসিংদীর আমেনা হ'ত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২৬ মার্চ ০৭ ২২:১৫:১৩

নরসিংদীর আমেনা হ'ত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: নরসিংদীর মাধবদীতে আলোচিত কিশোরী আমেনা আক্তার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, অপহরণের গল্প সাজিয়ে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন তার সৎ বাবা আশরাফ আলী। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে নরসিংদী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তে জানা গেছে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরার (২৮) সঙ্গে আগে থেকেই আমেনার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও তৈরি হয়। এদিকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার নামের কয়েকজন অভিযুক্ত তাকে হযরত আলীর বাড়িতে নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামের কিছু মাতবর সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার আশ্বাস দেন।

তদন্তে আরও জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মেয়েকে নিয়ে বের হন সৎ বাবা আশরাফ আলী। পথে সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার সময় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তিনি একাই আমেনাকে হত্যা করেন। পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এ ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ।

জবানবন্দিতে আশরাফ আলী উল্লেখ করেন, মেয়ের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত ছিলেন। পাশাপাশি এসব কারণে সামাজিকভাবে বিব্রত ও অপমানিত হওয়ায় তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, তদন্তের সময় আশরাফ আলীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে আসামিদের জবানবন্দি ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া আমেনার প্রেমিক নূর মোহাম্মদকে গাজীপুরের মাওনা থেকে এবং অপর অভিযুক্ত হযরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগে চারজনসহ মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে আমেনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় আশরাফ আলী দাবি করেছিলেন, আগের রাতে বখাটেরা তার সামনে থেকেই আমেনাকে তুলে নিয়ে যায় এবং পরে ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে ফেলে যায়।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত