ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
বেইমানি করছে মুসলিম বিশ্ব,আল্লাহর সাহায্য চাইছে গাজাবাসী
ডুয়া ডেস্ক: গাজায় ইসরায়েলের নির্যাতন এবং হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরেই সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল আবারও তার আগের সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে প্রকাশ্যে গাজায় গণহত্যা শুরু করেছে। এসব নিষ্ঠুর আক্রমণেও দুঃখজনক হলেও সত্য যে আরব মুসলিম দেশগুলোকে নির্বিকার থাকতে দেখা যাচ্ছে।
ইসরায়েল প্রতিদিন গাজার ওপর বোমাবর্ষণ করছে এবং দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে এই হামলায় ৫০ হাজারের বেশি নিরীহ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজা এখন পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে আর গাজাবাসীরা নিরন্তর এই হত্যাযজ্ঞের শিকার। যদিও বিশ্বব্যাপী এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উঠছে কিন্তু আরব দেশগুলো যেন কিছুই দেখছে না। তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের কার্যকর সহায়তা বা প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে না।
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, মুসলিমরা একে অপরের ভাই। রাসুল (সা.) বলেছেন, "যদি কোনো অংশে শরীরের কোনো অঙ্গ ব্যথিত হয় তবে পুরো শরীর তার অসুস্থতার অনুভূতি অনুভব করে।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর-৬৭৫৪)। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা যখন সন্ত্রাসের শিকার তখন আরব দেশগুলো যেন নির্বিকার। ফিলিস্তিনিদের এই মানবতাবিরোধী নির্যাতন দেখেও তারা কোনো প্রতিবাদ কিংবা সহায়তার হাত বাড়াচ্ছে না।
গাজার মুসলমানদের প্রতি এই নিষ্ঠুরতা দেখে তাদের কণ্ঠে চিৎকার এবং আকুতি ভরা বার্তাগুলো সোশ্যাল মিডিয়াতে শোনা যাচ্ছে। ইসরায়েলের বর্বরতা যেভাবে প্রকাশ্যে আসছে তা মানবিকতার বিরুদ্ধে এক অপরাধ। অথচ মুসলিম দেশগুলোকে এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় সহায়তা করতে দেখা যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে গাজাবাসী এখন আল্লাহর সাহায্য চাইছেন। তাদের আশা আল্লাহ তাদেরকে এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেবেন এবং ইসলামিক বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও তাদের পাশে দাঁড়াবে।
গাজা নিয়ে অনেক আগে থেকেই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা ছিল এবং এখন সেটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে যুক্ত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি গাজা পুরোপুরি দখল করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তার উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে সরিয়ে একটি পর্যটন শহর তৈরি করা। এর ফলে গাজায় গণহত্যা চালানোর জন্য নেতানিয়াহুকে নীরব সমর্থন দিতে শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
গত জানুয়ারিতে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামী গোষ্ঠী এবং ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল নতুন করে হামলা শুরু করেছে, যা তাদের আগের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। যুদ্ধবিরতি শুরুর পর যখন গাজার মানুষরা আশায় বুক বেঁধে নিজেদের বিধ্বস্ত বাড়িতে ফিরছিলেন তখন আবারও তাদের ওপর হামলা শুরু হয়েছে। এখন তাদের বেঁচে থাকার কোনো উপায় নেই। তারা শুধু মৃত্যুর অপেক্ষা করছে।
ইসরায়েলি হামলার ফলে গাজার বিভিন্ন অংশে লাখ লাখ মানুষ হতাহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজারেরও বেশি শিশু রয়েছে। অনেকেই নিখোঁজ, আবার কেউ কেউ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। এছাড়া মেডিকেল এবং ত্রাণ কর্মীদের উপরও পরিকল্পিত হামলার খবর প্রকাশিত হচ্ছে, যা ইসরায়েলের আসল নীতি সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছে।
বিশ্বের ২০০ কোটি মুসলিমের মধ্যে গাজার মুসলিমদের জন্য কেউ তেমন সাহায্য পাঠায়নি। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের নেতা যেমন- সৌদি আরব বিলাসিতায় মগ্ন। তারা পশ্চিমাদের আনুকূল্য লাভের জন্য নতুন নতুন অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা করছে কিন্তু গাজার মুসলিমদের জন্য সামান্য সহানুভূতি বা সাহায্যও তারা প্রদান করছে না।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ জেনে নিন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩১ অক্টোবর)
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুকদের সুখবর দিল সরকার
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ অক্টোবর)
- নভেম্বরের শুরুতে টানা তিন দিনের ছুটি পাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
- ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ
- এইচএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল কবে, জানাল বোর্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (০১ নভেম্বর)
- সরাসরি মৌখিক পরীক্ষায় এনজিওতে চাকরির সু্যোগ, বেতন ২৫-৬০ হাজার
- ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এমপির ছেলেকে যুবদল থেকে বহিষ্কার
- আজকের খেলার সময়সূচি (৩০ অক্টোবর)
- ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন শুরু ১ নভেম্বর, যেভাবে করবেন