ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বার্ষিক পরীক্ষা শেষেই নতুন বই পাবে শিক্ষার্থীরা: শিক্ষামন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৭ সালের নতুন বছরের প্রথম দিনে নয়, চলতি বছরের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীর গাউসুল আজমস্থ কমপ্লেক্সে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নির্বাহী কমিটির সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা জানান।
শিক্ষার্থীদের মানসম্মত বই দেওয়ার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের বলেন, কোনো মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বই সরবরাহ করলে কিংবা চাহিদার তুলনায় কম বই দিলে সেগুলো গ্রহণ করা যাবে না।
তিনি বলেন, এবার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার পরীক্ষা শেষে যেদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হবে, সেদিনই সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে মাদ্রাসাপ্রধানদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী বই সরবরাহ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। কাগজের গ্রেড নির্ধারিত মানের চেয়ে কম হলে বা কাগজ ও বাঁধাইয়ের মান খারাপ হলে সেই বই গ্রহণ করা যাবে না। একই সঙ্গে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে একটি বইও কম নেওয়া যাবে না।
শিক্ষার্থীদের কাছে উন্নত মানের বই পৌঁছে দিতে শিক্ষকদের সহযোগিতা চেয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নির্ধারিত মানের কাগজ ব্যবহার না করা এবং সময়মতো বই সরবরাহ না করার ঘটনা দেখা গেছে। এবার প্রতিটি মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে নজর রাখতে হবে। মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতিমধ্যে ৯০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি অর্থ দেওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানোর পর সেগুলোর মান যাচাই করা হবে। তাঁর ভাষ্য, এবার দরপত্রের মাধ্যমে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারদর অনুযায়ী কাজ দেওয়া হয়েছে। তাই কোনোভাবেই দুর্নীতির সুযোগ থাকার কথা নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে কাজে ফাঁকি দিতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সঙ্গে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মাওলানা আব্দুল মান্নান। তিনি নিজেও শিক্ষক ছিলেন এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করেছেন। মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে জিয়াউর রহমানের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, জিয়াউর রহমান প্রথম মাদ্রাসা শিক্ষার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষাকে যুক্ত করেন। মাদ্রাসার শিক্ষার মান উন্নত ও সমমানের করার উদ্যোগে সে সময় ৫০০ নম্বর যুক্ত করা হয়েছিল।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার আমলে তিনি মাওলানা আব্দুল মান্নানের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। মাদ্রাসা শিক্ষাকে কীভাবে আধুনিক করা যায়, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে বহুবার আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেও তাঁরা কাজ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে কার্যকর করার লক্ষ্যে বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে কারিগরি শিক্ষাকে দাখিল ভোকেশনাল ও আলিম ভোকেশনাল পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়। ওই সময়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেতে শুরু করেন। পাশাপাশি ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের জন্য মাদ্রাসা বোর্ডকে কুষ্টিয়া ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। শিক্ষার গুণগত মান পরিবর্তনের সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বর্তমানে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যেন ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হতে পারেন এবং সব ক্ষেত্রে ইসলামী চিন্তাধারা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে কোরআন-হাদিস সম্পর্কে ধারণা ও প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে মাদ্রাসাগুলোকে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মাদ্রাসা শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছেন, এ খাতে বাজেট বাড়িয়েছেন এবং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। শিক্ষামন্ত্রীর মতে, শিক্ষা ছাড়া জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। মাদ্রাসা বোর্ড, অধিদপ্তর ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছে।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৭৭ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন ও বিএনপির সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, সংগঠনটি সব সময় বিএনপি সরকারের সঙ্গে ছিল এবং কাজ করেছে। দেশ গঠন, শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে শিক্ষিত করা ও তাদের শিক্ষার প্রতি আত্মনিয়োগ সংগঠনটির আদর্শ ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিএনপি সরকারের কোনো পার্থক্য তিনি দেখেননি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির মহাসচিব অধ্যক্ষ সাব্বির আহমদ মোমতাজী।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ অক্টোবর)
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ৬ অক্টোবর
- ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল
- ‘রইদ’-এর ঝুলিতে তিন পুরস্কার, সেরা অভিনেত্রী নাজিফা তুষি
- ব্রাজিল বনাম ভারত: সরাসরি দেখুন এখানে
- শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
- যে কারণে স্থগিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ম্যাচ
- ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ
- প্রধান শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত