×

ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

গারো পাহাড়ে হাতিকে ঘিরে পর্যটন গড়তে চায় সরকার

২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৮:২১:৩৭

গারো পাহাড়ে হাতিকে ঘিরে পর্যটন গড়তে চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেরপুরের গারো পাহাড়ে হাতি সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটন খাতের বিকাশ ঘটিয়ে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা করছে সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু জানিয়েছেন, হাতিকে কেন্দ্র করে পর্যটন গড়ে তোলার উদ্যোগের পাশাপাশি হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) শেরপুরের মধুটিলা ইকোপার্কে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম, গণমাধ্যমকর্মী ও হাতি সংরক্ষণে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও ময়মনসিংহ বন বিভাগ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

আব্দুল আওয়াল মিন্টু বলেন, চাকরির সুযোগ তৈরি করা কঠিন। এ কারণে পর্যটন খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সাফারি পার্ক, মধুটিলা ইকোপার্কসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে পর্যটনসুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাতিকে ঘিরে পর্যটন গড়ে তোলা সম্ভব হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তাঁর ভাষায়, ‘হাতি যেখানে ভালো থাকবে, সেখানে বনও ভালো থাকবে।’

হাতি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এশিয়া মহাদেশের ১৩টি দেশে হাতি রয়েছে। এসব হাতি রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। হাতি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী, যা পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বন বিভাগের লোকবল কম থাকলেও হাতি সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজেদেরও পরিবর্তন করতে হবে।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী ও পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. সানাউল্যাহ পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক এএসএম জহির উদ্দিন আকন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নূরুল করিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেকসহ এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও হাতি সংরক্ষণে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীরা।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা গারো পাহাড়ে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব কমানো, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য গড়ে তোলার দাবি জানান। পাশাপাশি গারো পাহাড়কে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

অনুষ্ঠানে হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে চেক এবং এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যদের হাতে হাতি তাড়ানোর সরঞ্জাম তুলে দেন মন্ত্রী। এর আগে তিনি গারো পাহাড়ে হাতির চলাচলের পথসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতেও একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত