ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
এসএসসিতে অকৃতকার্যদের জন্য নতুন কর্মপরিকল্পনা করছে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক: এসএসসি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল করতে না পারা শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা মূল্যায়ন করে তাঁদের জন্য কর্মসংস্থান ও ক্যারিয়ারের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে একটি কর্মপদ্ধতি তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, ফল খারাপ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। যাঁদের যে ধরনের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, সরকারি উদ্যোগে তা নিশ্চিত করে তাঁদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়ানো হবে।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘চ্যালেঞ্জড স্টুডেন্টস কনভেনশন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মাহ্দী আমিন। গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষামন্ত্রী এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে একটি স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে। যেসব শিক্ষার্থীর কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে আগ্রহ রয়েছে, তাঁদের নিজ নিজ এলাকার টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও বিভিন্ন কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। আবার কারও ভালো ব্যবসায়িক ধারণা থাকলে তাঁকে ছোট পরিসরে প্রাথমিক তহবিলের ব্যবস্থা করে দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। মাহ্দী আমিন বলেন, এ জন্য তৃতীয় ভাষা শেখার বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। জাপানি, কোরীয়, চীনা কিংবা ইউরোপের কোনো দেশের ভাষা তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে শিখতে পারলে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সহজ হতে পারে। এসএসসির পর এইচএসসি ও উচ্চশিক্ষা শেষ করেও শতভাগ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা থাকে না। অন্যদিকে, ভাষা শিক্ষা ও স্বল্পমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে দ্রুত আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এসএসসির পর এইচএসসি এবং এরপর অনার্স শেষ করেও অনেকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয় না। তবে ভাষা শেখার সুযোগ এবং তিন বা ছয় মাস মেয়াদি বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে অনেক শিক্ষার্থী সরাসরি কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারবেন।
যেসব শিক্ষার্থী কোনো কারণে ভালো ফল করতে পারেননি, তাঁদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নিয়েও সরকার ভাবছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, অনেক শিক্ষক ও অভিভাবক ইতিমধ্যে এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। বিশেষ করে যে বিষয়ে শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, শুধু সেই বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রাখা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, সামনে এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
জনগণের নির্বাচিত ও শিক্ষাবান্ধব সরকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকার সচেষ্ট বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেন, একটি সরকার দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো, জিপিএ-৫ বা গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া কিংবা কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের প্রতিও রাষ্ট্রের সমান দায়িত্বশীলতা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হওয়ার পেছনে শুধু মেধার ঘাটতিকে দায়ী করা যায় না বলে মন্তব্য করেন মাহ্দী আমিন। তাঁর ভাষ্য, পারিবারিক ও আর্থিক অসংগতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বা শ্রেণিকক্ষের অভাব, পরীক্ষার আগে অসুস্থ হয়ে পড়া কিংবা পারিবারিক সংকটসহ নানা কারণে ফল খারাপ হতে পারে। সরকার শুধু পরীক্ষার ফল দিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে না। শিক্ষকসংকট থাকলে শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষের অভাব হলে অবকাঠামো তৈরি এবং আর্থিক অসংগতি থাকলে সহায়তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
এসব সমস্যার সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে পূর্ণাঙ্গ খাতা পুনঃনিরীক্ষণ চালু করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় শুধু নম্বরের যোগ-বিয়োগ নয়, প্রতিটি উত্তরের গুণগত মানও নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সরকার গঠনের মাত্র চার মাসের মধ্যে এ ধরনের সংস্কার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়াও সম্ভব হতে পারে।
পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জীবনে চলার পথে সাময়িকভাবে পিছিয়ে পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। এসএসসি কিংবা এইচএসসিতে ভালো ফল করলে জীবনে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে, কিন্তু তা ভবিষ্যৎ সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। একইভাবে, পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না করেও অনেকে জীবনে সফল হন। তাই এসএসসিতে ভালো ফল করাই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়, আর কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়াও জীবনের ব্যর্থতা নয়।
এ প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, সম্মেলনে এমন অনেক শিক্ষার্থী রয়েছেন, যাঁরা একটি বিষয় ছাড়া বাকি সব বিষয়ে ভালো ফল করেছেন। একটি বিষয়ে খারাপ ফলের কারণে কারও পুরো জীবন নির্ধারিত হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের কেউ খেলোয়াড় হতে পারেন, কেউ সংস্কৃতিচর্চায় আগ্রহী, কেউ বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে উদ্ভাবনী প্রতিভার অধিকারী, আবার কারও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থাকতে পারে। একটি বিষয়ে খারাপ ফল অন্য ক্ষেত্রের মেধা, সৃজনশীলতা ও মননশীলতা নষ্ট করে দেয় না। মানুষের জীবনকে কোনো একটি বিষয়ের ফল দিয়ে বিচার করা যায় না।
শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীতে বড় বড় আবিষ্কার করেছেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়েছেন কিংবা শিল্পী, সংস্কৃতিসেবী ও খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন এমন অনেকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ফল খুব ভালো ছিল না। তাই শুধু সনদের ভিত্তিতে একজন মানুষের জীবন বিচার করা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের নিজেদের ওপর আস্থা রাখতে হবে এবং নিজেদের মেধার প্রতি বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যেতে হবে।
গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণস্বাক্ষরতা অভিযান কাউন্সিল (বোর্ড)-এর চেয়ারপারসন ড. ইরাম মরিয়ম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস এবং ডা. আরিফুর রহমান প্রমুখ।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ অক্টোবর)
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ৬ অক্টোবর
- ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল
- ‘রইদ’-এর ঝুলিতে তিন পুরস্কার, সেরা অভিনেত্রী নাজিফা তুষি
- ব্রাজিল বনাম ভারত: সরাসরি দেখুন এখানে
- যে কারণে স্থগিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ম্যাচ
- শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
- চাঁদাবাজি-দখলদারি দেখার জন্য কি মানুষ জীবন দিয়েছিল: জুবায়ের
- ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ