×

ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

‘মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় সৌদি আরবের পাশে থাকবে বাংলাদেশ’

২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৫:১৭:২৯

‘মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় সৌদি আরবের পাশে থাকবে বাংলাদেশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান সুস্পষ্ট। এ দুই পবিত্র স্থান আক্রান্ত হলে সৌদি আরব যেভাবে সহযোগিতা চাইবে, বাংলাদেশ তা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত বিনিয়োগ। বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শ্রমবাজারকে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। সৌদি আরবে আরও দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে আগ্রহী ঢাকা।

তিনি বলেন, মক্কা ও মদিনা যে অঞ্চলে অবস্থিত, সেখানে অসংখ্য মুসলমানের বসবাস। মুসলিম দেশগুলোর স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের বিশ্বব্যাপী কার্যক্রমে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হলে তা এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

মক্কা চুক্তির উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলেও মনে করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, এ চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে।

মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো আমন্ত্রণ বা জবাব এসেছে কি না, জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার। পবিত্র মক্কা ও মদিনার প্রশ্নে কোনো আপস নেই।

সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে তিনি বলেন, এত দিন দুই দেশের সম্পর্ক প্রধানত শ্রমিক পাঠানো ও রেমিট্যান্স আনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সেই গণ্ডি পেরিয়ে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

হুমায়ুন কবির জানান, সৌদি আরব বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। স্টার রিফাইনারি-২ প্রকল্পে দেশটির বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ চলছে। এ উদ্দেশ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগও বাড়ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সৌদি আরবের সঙ্গে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও বিনিয়োগ অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। শ্রমবাজারনির্ভর প্রচলিত সম্পর্কের বাইরে প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণ করতে হবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুরোনো নির্ভরতা কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নীতির ভিত্তিতে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, এ সফরে বিনিয়োগ অংশীদারত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ এবং বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের পর জ্বালানি সংকট দেখা দিলে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানিবিষয়ক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে জাপানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। জাপান সরকারের আগ্রহ এবং বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোও আলোচনায় আসবে।

আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সফরে বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত