×

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

দুই বছরের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশা

২০২৬ অক্টোবর ০৯ ২১:৩৬:০৭

দুই বছরের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ও পরিবর্তনের সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ আশার কথা জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, দেশে এখনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করা সম্ভব হয়নি। ঢাকার আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্পের কাজ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে ঢাকা দক্ষিণেও বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও সম্পদ উৎপাদনের প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ধাপে ধাপে জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতেও এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে নিশ্চিত করা না গেলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সারা দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা করছেন।

গাজীপুর সাফারি পার্কের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সভা করে সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানা হবে। এরপর সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সাফারি পার্ক থেকে লেমুর চুরির বিষয়ে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, লেমুরটি অবৈধভাবে আনা হয়েছিল। পরে সেটি সাফারি পার্ক থেকে চুরি হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও তদন্ত চলছে। আম্বানির চিড়িয়াখানা থেকে দুটি লেমুর নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে সাফারি পার্ক থেকে দুটি লেমুর চুরি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বনের জমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ বসবাস করেন। প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ চাকরির বাজারে প্রবেশ করেন। এ পরিস্থিতিতে চাইলেই শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া যায় না। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, আগে থেকে গড়ে ওঠা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বনের জমি দখলে রেখেছে, সেগুলো উদ্ধারে মামলা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও কিছু জটিলতা রয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, সরকারি সমীক্ষা অনুসারে, গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ভেতরে ৪৬৫ একর জমির মালিক সাধারণ মানুষ। বনাঞ্চলের মধ্যে জমিগুলো পড়ায় মালিকেরা সেখানে যেতে পারছেন না, এমনকি নিজেদের জমি ব্যবহারও করতে পারছেন না। অন্যদিকে, ওই এলাকায় জনবসতি গড়ে উঠলেও প্রয়োজনীয় সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এসব সমস্যার সমাধানে আইন বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে চলতি মাসের মধ্যে বৈঠক করা হবে বলে জানান পরিবেশমন্ত্রী।

এর আগে আবদুল আউয়াল মিন্টু গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি গাজীপুর সাফারি পার্কে যান।

এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরু-আল-মামুন, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম. ইকবাল হোছাইন চৌধুরীসহ বন বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত