×

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে পাহাড়ে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত’

২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৬:০০:৪৩

‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে পাহাড়ে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত’

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নোয়াখালীপাড়া ও রঙ্গিখালী পাহাড়ি এলাকায় ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের অধীনে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। ওই এলাকাগুলোতে নিয়মিত অপহরণের ঘটনা ঘটে। সেনা ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) একজন ডিআইজি নেতৃত্ব দেন। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সমন্বিতভাবে অভিযানে অংশ নেয়।

যুদ্ধ পরিস্থিতি কিংবা সীমান্তে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের অধীনে কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) নির্ধারিত রয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আনাগোনা ক্যাম্পের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে। এর বাইরে সাধারণ অপরাধও সংঘটিত হয়।

এসব অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি নিয়মিতভাবে এপিবিএন কাজ করছে বলে জানান তিনি। সম্প্রতি এপিবিএনের আইনগত কাঠামোয় তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে। এপিবিএনে প্রায় ৪০০ সাব-ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন। তাঁদের তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ায় ক্যাম্পের অপরাধ তদন্তে তাঁরা ভূমিকা রাখতে পারবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত ফেন্সিং বা কাঁটাতার পুনর্নির্মাণ করা হবে। সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে সেখানে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর সার্কিট ক্যামেরা বসানোর পাশাপাশি কন্ট্রোল টাওয়ার ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আলাদা উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি দেখছে। আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন।

তিনি বলেন, ‘সমস্যাটি সমাধানে আমরা প্রচেষ্টায় আছি। তবে সময় ইতোমধ্যে অনেক অতিবাহিত হয়েছে, সমস্যাও অনেক ভারী হয়েছে। আমরা আশা করব, এই সমস্যা থেকে আমরা খুব শিগগিরই মুক্তি পাব।’

রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা কারাগার নির্মাণের কোনো প্রস্তাব তাঁর জানা নেই বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় কমিটির বৈঠক হয়। এতে পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও রোহিঙ্গা রিফিউজি রিলিফ অ্যান্ড রিপ্যাট্রিয়েশন কমিশনারের (আরআরআরসি) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

জঙ্গল সলিমপুরেও একাধিক সিদ্ধান্ত

বৈঠক শেষে জঙ্গল সলিমপুরের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই এলাকায় সরকারি জমি ও পাহাড়কে সুশাসনের আওতায় আনতে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।

জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য জমি দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের জন্য ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বায়েজিদ লিংক রোডের পাশে কারাগারটি স্থানান্তর করা হবে।

এ ছাড়া জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারীদের পুনর্বাসন এবং সেখানে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুর একসময় সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য ছিল। এখন এলাকাটিকে সুশাসন ও শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র‍্যাব ও এপিবিএনের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জায়গা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো সেখানে স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত