×

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আতপ চালের চাহিদা জানতে তথ্যভিত্তিক গবেষণার তাগিদ খাদ্যমন্ত্রীর

২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৫:০৪:৩২

আতপ চালের চাহিদা জানতে তথ্যভিত্তিক গবেষণার তাগিদ খাদ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস, চালের চাহিদা ও ভোগের ধরন সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। ভবিষ্যৎ খাদ্যনীতি প্রণয়নে এসব তথ্য প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আতপ চালের ব্যবহার ও চাহিদা নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া সম্ভব।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ হলরুমে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) আয়োজনে ‘আ স্টাডি অন দ্য কনজাম্পশন অ্যান্ড ডিমান্ড ফর নন-অ্যারোমেটিক হোয়াইট রাইস (আতপ চাল) ইন সিলেক্টেড এরিয়াস অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার ইনসেপশন ওয়ার্কশপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। তাই পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাঁর মতে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শুধু খাদ্যের মজুদ নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের প্রয়োজন, পছন্দ ও পুষ্টির চাহিদাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

আতপ চালের ব্যবহার সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আফরোজা খানম বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ চালের ব্যবহার দেখে আসছেন তিনি। বিভিন্ন ধরনের পিঠা ও ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরিতেও আতপ চাল ব্যবহৃত হয়। তবে কয়েকটি অঞ্চলের চিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা দেশে এ চালের ভোগ ও চাহিদার প্রকৃত অবস্থা জানা দরকার। এ জন্য গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ।

আতপ ও সিদ্ধ চালের পুষ্টিগত পার্থক্য নিয়েও কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। চাল প্রক্রিয়াজাত করা কিংবা একাধিকবার সিদ্ধ করার ফলে পুষ্টিমান কতটা বদলায় এবং কোন প্রক্রিয়ায় পুষ্টি বেশি সংরক্ষিত থাকে, সে বিষয়ে গবেষকদের কাছে জানতে চান তিনি।

আন্তর্জাতিক খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, চালের তুষ ও ভুসির স্তর অতিরিক্ত পালিশের মাধ্যমে সরিয়ে ফেললে ভিটামিন ও খনিজের পরিমাণ কমে যেতে পারে। মিলিং ও পালিশের সময় বিশেষ করে থায়ামিন, নিয়াসিনসহ বি-গ্রুপের কিছু ভিটামিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যায়।

ধান সিদ্ধ করার সময় ভুসি ও অঙ্কুরের কিছু পুষ্টি উপাদান চালের শাঁসে চলে যায়। ফলে সিদ্ধ চালে সাধারণত এসব পুষ্টি উপাদান তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। তবে রান্নার সময় অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করে তা ফেলে দিলে পানিতে দ্রবণীয় কিছু ভিটামিন ও খনিজের ক্ষতি হতে পারে। তাই চালের পুষ্টিমান নির্ধারণে ধান সিদ্ধ করার পদ্ধতি, মিলিংয়ের মাত্রা এবং রান্নার প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। সভাপতিত্ব করেন খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। স্বাগত বক্তব্য দেন এফপিএমইউর মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান।

গবেষণার কনসেপ্ট নোট ও প্রাথমিক বিষয়বস্তু তুলে ধরেন এফপিএমইউর সহযোগী গবেষণা পরিচালক মো. মাহিনুর ইসলাম।

কর্মশালায় খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খুলনা ও সিলেটের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত