×

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আজ

২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১১:০২:১৮

দিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা নিরসনে নয়াদিল্লিতে বসছে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম বৈঠক। দুই দিনের এ বৈঠকে পাটপণ্যের ওপর অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার, স্থলবন্দরের জটিলতা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) শুরু হয়ে বৈঠকটি চলবে শুক্রবার পর্যন্ত। এতে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে ভারতীয় পক্ষ কোন কোন বিষয় আলোচনায় আনবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। প্রতিনিধিদলটি মঙ্গলবার ঢাকা ছেড়েছে।

বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের এক কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্যসংক্রান্ত প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হবে। তবে এটি মূলত আলোচনার একটি প্ল্যাটফর্ম হওয়ায় বৈঠক থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। কারণ ভারত থেকে বাংলাদেশ যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করে, তার তুলনায় দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ অনেক কম।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে ১৭৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে একই সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ১ হাজার ৯৬ কোটি ডলারের পণ্য। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতি উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা মূলত ভারতের কাছ থেকে শিল্পকারখানার কাঁচামাল, কাপড়, তুলাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করেন। ফলে আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যহীনতা কমানো এবং বাংলাদেশের পণ্যের জন্য ভারতের বাজারে আরও সুযোগ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

এ ছাড়া ভারতের আরোপ করা পাটপণ্যের অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক নিয়েও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনা করা হবে। বাংলাদেশি পাটপণ্যের ওপর এ ধরনের শুল্ক আরোপের ফলে রপ্তানিকারকেরা সমস্যার মুখে পড়ছেন। বৈঠকে এ বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ তুলে ধরা হবে।

স্থলবন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন জটিলতার বিষয়ও বৈঠকের আলোচনায় থাকবে। সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য আরও সহজ ও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

তবে আলোচিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) এবার বাংলাদেশের আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়নি।

উল্লেখ্য, চীনের পর ভারত বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আমদানি উৎস। দুই দেশের ভৌগোলিক নৈকট্য এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, রপ্তানি বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের জটিলতা দূর করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দুই দিনের এ বৈঠকের মাধ্যমে বিদ্যমান বাণিজ্য সমস্যাগুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ অক্টোবর)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ অক্টোবর)

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের পরিবর্তনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার... বিস্তারিত