ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
৬২ লাখ প্রবীণ পাচ্ছেন বয়স্ক ভাতা, আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ৬২ লাখ প্রবীণ নাগরিক বর্তমানে সরকারের বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন। প্রবীণদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিবছরই এ কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হচ্ছে। তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও কিছু যোগ্য প্রবীণকে ভাতার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো গেলে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য সব মানুষকে পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচির আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, একসময় ৬০ লাখ প্রবীণকে বয়স্ক ভাতা দেওয়া হতো। পরে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৬১ লাখ করা হয়। চলতি বছর আরও ১ লাখ প্রবীণকে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে মোট ৬২ লাখ মানুষ বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, নারীদের ক্ষেত্রে ৬০ বছর এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়স হলে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তৈরি হয়। তবে নির্ধারিত বয়সসীমা পূরণ করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ সুবিধা পান না। সরকারি নীতিমালা ও নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়।
সচিব বলেন, বর্তমানে বয়স্ক ভাতার জন্য বেশ কিছু আবেদন রয়েছে, যেগুলোর শতভাগ বাস্তবায়ন বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কিছু মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসূচির আওতায় নেওয়া যাচ্ছে না। তবে সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং বাজেট সক্ষমতা বাড়লে পর্যায়ক্রমে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, প্রবীণরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ। দীর্ঘ কর্মজীবনে অর্জিত তাদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মূল্যবান সম্পদ। কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার অর্থ সমাজে তাদের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। বরং তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, দরিদ্র ও অসহায় প্রবীণদের জন্য বয়স্ক ভাতা গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। দৈনন্দিন ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি পরিবারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবং আত্মমর্যাদা বজায় রাখতেও এ ভাতা ভূমিকা রাখছে।
প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের গড় আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে প্রবীণ মানুষের সংখ্যাও ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। তাই তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ চলাচল এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
প্রবীণদের চলাচলের সুবিধার বিষয়ে সচিব বলেন, রেল, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন গণপরিবহন ব্যবস্থায় তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এসব পাবলিক ট্রান্সপোর্টে প্রবীণ নাগরিকদের ২৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা দিয়ে প্রবীণদের প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব নয়। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবা, যাতায়াত, নিরাপদ আবাসন, বিনোদন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রবীণবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা গেলে তারা পরিবার ও সমাজে আরও সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে পারবেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, প্রবীণদের কল্যাণে সরকারের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোতে প্রবীণদের সম্মান ও দেখাশোনার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এ মূল্যবোধ ধরে রাখার পাশাপাশি পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রবীণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, অনেক প্রবীণ এখনও শারীরিকভাবে সক্ষম এবং বিভিন্নভাবে সমাজে অবদান রাখার সামর্থ্য রাখেন। তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে প্রবীণদের সক্রিয় জীবন নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নবীন প্রজন্মও তাদের কাছ থেকে উপকৃত হবে।
বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও লক্ষ্যভিত্তিক করার কাজ চলছে। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করে তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহারও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সচিব জানান, বয়স্ক ভাতার আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি উপকারভোগীদের ভাতার পরিমাণও পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। চলতি বছর উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভাতার পরিমাণও কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। ফলে প্রবীণদের একটি বড় অংশ আগের তুলনায় বেশি আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।
ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় প্রবীণদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বয়স্ক ভাতার আওতাও আরও সম্প্রসারিত হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বাজেট বৃদ্ধি পেলে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য সকল ব্যক্তিকে পর্যায়ক্রমে এ ভাতার আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
সরকারের এ উদ্যোগের ফলে দেশের বিপুলসংখ্যক প্রবীণ মানুষ আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি। তবে ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে শুধু ভাতা প্রদান নয়, স্বাস্থ্যসেবা, গণপরিবহনে বিশেষ সুবিধা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগসহ সমন্বিত প্রবীণবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ৬ অক্টোবর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ অক্টোবর)
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- পে স্কেল বাস্তবায়নে মাউশির নতুন নির্দেশনা
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটির সুযোগ
- বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার চেক ছাড়
- ব্রাজিল বনাম ভারত: সরাসরি দেখুন এখানে
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২ অক্টোবর)
- ৯ গোল খেয়ে দুই ফুটবলারের ‘নারীসঙ্গ’ নিয়ে যা জানা গেল
- শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
- যে কারণে স্থগিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ম্যাচ
- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল
- ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল
- বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার