×

ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

মূল্যস্ফীতির চাপে নতুন করে দরিদ্র ২১ লাখ মানুষ

২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১২:২৫:১৭

মূল্যস্ফীতির চাপে নতুন করে দরিদ্র ২১ লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির প্রভাবে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ২০২৫ সালে দেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন ২১ লাখ মানুষ। সব মিলিয়ে বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন প্রায় ৩ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ। মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি খাতের সংকট, দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং রাজস্ব আয়ের ধীরগতির কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাবে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতিও আর্থিক খাতকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় দারিদ্র্যসীমার হিসাবে টানা চতুর্থ বছরের মতো দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। গত অর্থবছরে তা আনুমানিক ২২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে ২০২৫ সালেই ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন।

একই সময়ে আয়বৈষম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মসংস্থান তৈরির গতি থেমে যাওয়ার পাশাপাশি নারীদের চাকরি হারানোর কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বৈশ্বিক সংঘাত না থাকলে ২০২৬ সালে ১৭ লাখ মানুষের দারিদ্র্য থেকে বের হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এখন সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৫ লাখে দাঁড়াবে। অর্থাৎ ১২ লাখ মানুষের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না।

অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে মন্দা এড়াতে ব্যাংক খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং সাহসী সংস্কারের প্রয়োজন বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, এই তিন খাতে সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেছেন, প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে বাংলাদেশের জরুরি আর্থিক, জ্বালানি ও রাজস্ব সংস্কার দরকার। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমছে, একই সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়েছে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতি বাড়ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমছে। অন্যদিকে সামাজিক সুরক্ষা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার-সহায়তায় সরকার বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিলেও এর উল্লেখযোগ্য অংশ দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। অনেক সচ্ছল পরিবার এসব সুবিধা পেলেও দরিদ্রতম বহু পরিবার সামাজিক সুরক্ষার বাইরে রয়ে যাচ্ছে।

জ্যঁ পেম আরও বলেন, বিনিয়োগের গতি কমেছে, রপ্তানিও দুর্বল হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা কমার পাশাপাশি ব্যবসায়িক ব্যয় বেড়েছে। আর্থিক খাতের দুর্বলতা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলছে। সীমিত রাজস্ব সংস্থানের কারণে সরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্সপ্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির কারণে দেশের বাহ্যিক খাতে স্থিতিশীলতা রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতি আরও সহজ হওয়া এবং সরকারি সংস্কার কর্মসূচি দ্রুত এগোলে ২০২৮ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ববাজারে বুধবার স্বর্ণের দরে সামান্য পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।... বিস্তারিত