×

ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষকদের বেতন-অবসর ভাতা যথাসময়ে ব্যাংকে: প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১৭:০০:১৬

শিক্ষকদের বেতন-অবসর ভাতা যথাসময়ে ব্যাংকে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বেতন ও অবসর ভাতা পেতে শিক্ষকদের আর কষ্ট করে অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে তাঁদের অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে।

আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ‘শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বিধান এবং শিক্ষকতা পেশাকে সুযোগ ও সম্মানের দিক থেকে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। শিক্ষকতা পেশা কখনোই উপায়হীন বিকল্প বা সাধারণ চাকরি হতে পারে না। বরং শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবী মানুষটি যাতে শিক্ষকতাকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নেয়, সরকার সেভাবেই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।’

শিক্ষকদের বেতন ও অবসর ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধের বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের বেতন ও অবসর ভাতার জন্য কষ্ট করে অফিসে অফিসে ঘোরাঘুরি করতে হবে না, যথাসময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে।’

শিক্ষকদের সম্মানের সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি সম্পর্কিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কারণ শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গেই রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত। একজন শিক্ষক কর্মরত কিংবা অবসরপ্রাপ্ত—যেভাবেই থাকুন না কেন, রাষ্ট্রের কাছে তিনি সম্মানীয়। একজন শিক্ষক কর্মরত বা অবসর যেভাবেই থাকুন না কেন, তিনি রাষ্ট্রের কাছে আমৃত্যু সম্মানীয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের শিক্ষকগণই হচ্ছেন জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। শিক্ষার্থীরা যাতে বই-বিমুখ হয়ে না ওঠে, সেজন্য শিখন ও শিক্ষণ পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ। মুখস্থ করার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের মনে ‘কেন এবং কীভাবে’-এ ধরনের প্রশ্ন জাগিয়ে তুলতে হবে। কৌতূহল থাকলে শিক্ষার্থী নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে উঠতে পারে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সিলেবাস আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে।’

তিনি জানান, একজন শিক্ষক ট্যাবের মাধ্যমে ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, কোশ্চেন ব্যাংক, শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ ও ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে কোনো শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকবে না এবং শিক্ষাজীবনের যেকোনো পর্যায় থেকে কেউ যেন ড্রপআউট না হয়। কাউকে বেকার থাকতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষাখাতে বাজেটের পরিমাণ আরও ধীরে ধীরে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এতে সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষকদের একান্ত সহযোগিতা সরকারের প্রয়োজন। তাহলেই লক্ষ্য অর্জন এবং বাজেট বৃদ্ধি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি নীতি-নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, নীতি-নৈতিকতা এবং চরিত্র গঠনই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। কারণ জ্ঞান যদি নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত না হয়, তবে তা সমাজের অকল্যাণের কারণ হতে পারে।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার পরিসর তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২১ হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং তিন লাখের বেশি শিক্ষক কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিচ্ছেন। শহর ও গ্রামের শিক্ষার সুযোগের পার্থক্য দূর করতে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে, যাতে সব অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা দক্ষ শিক্ষক ও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা পায়।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম

ফের বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) এশিয়ার... বিস্তারিত