ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বর্ষায় পানিবন্দি আল্লারদর্গা স্কুল, ব্যাহত পাঠদান
নিজস্ব প্রতিবেদক: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্ষা এলেই দেখা দেয় চরম জলাবদ্ধতা। শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলা ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক বিকাশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নিচতলার শ্রেণিকক্ষগুলোতে পানি প্রবেশ করেছে। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও শিক্ষকরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরাও পানিবন্দি শ্রেণিকক্ষেই ক্লাস করছে। পানিতে ডুবে আছে বিদ্যালয়ের পুরো খেলার মাঠ। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে রয়েছে। ফলে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার এলাকায় কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষার পানি বিদ্যালয়ের মাঠে জমে থাকে। বছরের অধিকাংশ সময় মাঠটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে সেই পানি শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষেও ঢুকে পড়ে। নোংরা পানির কারণে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাছকিয়া আক্তার বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আমাদের শ্রেণিকক্ষ, কমনরুম ও শিক্ষকদের অফিসে পানি জমে যায়। বই-খাতা ও স্কুল ড্রেস ভিজে যায়। সারাদিন ভেজা অবস্থায় থাকতে হয়। এতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে হয়। অনেক দূরের শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে চায় না। আমরা এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান চাই।’
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রিহান বলেন, ‘আমাদের ক্লাসরুমে পানি ঢুকে গেছে। প্রতিবছর এমন হয়। আমার কয়েকজন বন্ধু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অনেকে স্কুলেও আসে না। এতে আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।’
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ নীরব বলেন, ‘বছরের প্রায় ছয় মাস মাঠে পানি জমে থাকে। অনেক সময় মাঠে হাঁটুপানি হয়ে যায়। পানি নেমে গেলেও কাদা, শামুক ও বিভিন্ন পোকামাকড়ের কারণে খেলাধুলা করা যায় না। খেলতে গিয়ে পা কেটে যায়। আমাদের খেলাধুলা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।’
অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা এলেই সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং অনেকে স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, ‘প্রতিবছর আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করে। কিন্তু বর্ষা মৌসুম এলেই শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষ পানিতে তলিয়ে যায়। বছরের প্রায় ছয় মাস স্কুলের খেলার মাঠ ব্যবহারের অনুপযোগী থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, মেধার বিকাশ ও নিয়মিত পাঠগ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে চায় না এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করে এই দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, ‘বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। যত দ্রুত সম্ভব এখানে কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে পাঠদান ও পাঠগ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।’
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ
- জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে যেতে টিকিট কাটবেন যেভাবে
- ভাতা-উপবৃত্তির আবেদন শুরু, জেনে নিন পদ্ধতি
- মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ
- ‘গুলশানের চামেলি’ তে যৌনকর্মীর দালাল অ্যাডলফ খান
- এক ক্লিকে জেনে নিন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ও ফিচার
- কবে শুরু হচ্ছে ঢাবির ভর্তি আবেদন, জানাল কর্তৃপক্ষ
- নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল
- আজকের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দাম (৫ আগস্ট)
- পাঁচ দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দিল সরকার
- কবে হবে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, জানা গেল যা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ আগস্ট)
- রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড: ঢাবির কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ আগস্ট)
- পিএসসিতে আরও চার সদস্য নিয়োগ