ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিমুখী ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মোড়ের সূচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তার স্থায়িত্ব নিয়ে ক্রমবর্ধমান সন্দেহের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিন দেশের মধ্যে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে তিন দেশের ওপরই যৌথ আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের একক নির্ভরতায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। রাইস ইউনিভার্সিটির বেকার ইনস্টিটিউট অব পাবলিক পলিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ফেলো ক্রিস্টিয়ান কোটস উলরিচসেন বলেন, মার্কিন অংশীদারিত্বের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দীর্ঘ এক দশক ধরে সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু, পরবর্তী সময়ে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি এবং তা সমাধানের অসফল প্রচেষ্টা এই শঙ্কাকে আরও তীব্র করেছে।
তবে উলরিচসেনের মতে, ওয়াশিংটনকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার জন্য এই চুক্তি করা হয়নি। বরং মার্কিন সহায়তার পাশাপাশি অতিরিক্ত কৌশলগত ও নীতিগত বিকল্প তৈরি করাই এর লক্ষ্য।
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির বিশ্লেষক সিনা তোসির মতে, মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের ফলে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি পুনর্বিন্যাসের এটি একটি বড় লক্ষণ। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শক্তিশালী নিরাপত্তা সম্পর্ক বজায় থাকলেও রিয়াদ এখন ওয়াশিংটনের ওপর এককভাবে নির্ভর না করে আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের পথ বেছে নিচ্ছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর এর প্রভাব বিবেচনা না করেই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করায় মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্ররা মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানি বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পাশাপাশি জ্বালানি ও বিশোধন প্লান্টের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হয়।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় আঞ্চলিক অর্থনীতিগুলো বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ভারী বিমান হামলার মুখেও ইরান প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। একই সময়ে ওয়াশিংটনও তার মিত্রদের পর্যাপ্ত বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হিমশিম খেয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংকটের এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের ওপর ঐতিহ্যগত নির্ভরতা চরম চাপের মুখে পড়েছে। তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক ইয়াসমিন ফারুক মনে করেন, এই চুক্তিকে মার্কিন ব্যবস্থার বিকল্প কোনো একক কাঠামো হিসেবে দেখা ভুল হবে।
চুক্তিভুক্ত তিনটি দেশই যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার। তারাও স্বীকার করে যে যুক্তরাষ্ট্রের সমতুল্য কোনো বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামো নেই। এ ছাড়া এই চুক্তি ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বৃদ্ধির কোনো পদক্ষেপ নয়। তিন দেশই যুদ্ধের শুরু থেকেই মধ্যস্থতা ও উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
মূলত ইরানি আগ্রাসনের মুখে কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ‘নর্মেটিভ ডিটারেন্স’ বা আদর্শগত প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ঐতিহাসিক মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ আগস্ট)
- জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে যেতে টিকিট কাটবেন যেভাবে
- ভাতা-উপবৃত্তির আবেদন শুরু, জেনে নিন পদ্ধতি
- ‘গুলশানের চামেলি’ তে যৌনকর্মীর দালাল অ্যাডলফ খান
- এক ক্লিকে জেনে নিন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ও ফিচার
- কবে শুরু হচ্ছে ঢাবির ভর্তি আবেদন, জানাল কর্তৃপক্ষ
- নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল
- কবে হবে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, জানা গেল যা
- আজকের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দাম (৫ আগস্ট)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ আগস্ট)
- পাঁচ দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দিল সরকার
- রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড: ঢাবির কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ আগস্ট)
- কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ স্কলারশিপে আবেদন শুরু