ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসভাড়া সমন্বয়ের দাবি নতুন করে সামনে এসেছে। ২০ সেপ্টেম্বর রাতে সরকার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পরই গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর দাবি ওঠে। সরকার এখনো বাসভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা না দিলেও কোথাও কোথাও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। একই দিন বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে দূরপাল্লার ও মহানগরের বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা এবং নগর বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে ২ টাকা ৭৩ পয়সা করার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস পরিচালনার ব্যয়ের বড় অংশজুড়ে রয়েছে জ্বালানি। তাই ডিজেলের দাম বাড়লে পরিচালন ব্যয়ও বাড়ে। তবে বাসের মোট ব্যয়ের মধ্যে চালক-শ্রমিকের বেতন, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, টায়ার-টিউব, যন্ত্রাংশ, ফিটনেস, কর, বিমা, টার্মিনাল ও ব্যবস্থাপনা ব্যয়সহ আরও বিভিন্ন খাত রয়েছে। ভাড়া নির্ধারণের সময় এসব ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়। জ্বালানির দাম বাড়ার পর প্রতিবারই এসব বিষয় বিবেচনায় রাখে বিআরটিএ।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী থাকায় দেশে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। তাঁদের মতে, জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে সরকারের উচিত এ খাতে ভর্তুকি দেওয়া।
এবার বাসভাড়া বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব
গত এপ্রিলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। এর পর ২৩ এপ্রিল বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়ানো হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া তখন ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং দূরপাল্লার বাসের ভাড়া ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়েছিল। অর্থাৎ, ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়লেও বাসভাড়া বেড়েছিল কিলোমিটারে ১১ পয়সা।
এবার ডিজেলের দাম আরও ২০ টাকা বাড়ায় কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। অর্থাৎ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে বাসভাড়া বৃদ্ধির সরাসরি হিসাব করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এ এস এম আহমেদ খোকন বলেন, ‘জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে ১ টাকা বাড়লে বাসভাড়া কিলোমিটারে ১ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি আমরা। সে হিসাবে লিটারে ২০ টাকা বাড়লে কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন পরিচালনা খরচ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে ভাড়া সমন্বয় করা না হলে মালিকদের লোকশান গুনতে হয়। তাই পরিবহন মালিক সমিতি যৌক্তিক ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সরকার ভাড়ার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে।’
মালিকদের দাবি ও বিআরটিএর প্রস্তাব
বিআরটিএর বৈঠকের আগে পরিবহন মালিকেরা আরও বেশি ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের পক্ষ থেকে কিলোমিটারপ্রতি অন্তত ৪০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে বিআরটিএর ভাড়া সমন্বয় কমিটি ২০ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করে। এই সুপারিশ আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আজ বিকেল অথবা আগামীকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে সরকার।
তবে প্রজ্ঞাপন জারির আগেই গতকাল (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫ থেকে ২০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরপরই পরিবহন শ্রমিকেরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। গতকাল সোমবার থেকেই প্রায় সব বাসে একইভাবে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত একটি যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবি উঠেছে।
ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার থেকে মিরপুর-১০ রুটে আলিফ পরিবহন চলাচল করে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এই রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মিরপুর-১০-এর বাসিন্দা হাবিব রাসেল নিয়মিত ওই রুটে যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, ‘ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে মিরপুর-১০ দূরত্ব আনুমানিক ১৫ কিলোমিটার। বর্তমান সরকারি হারে ভাড়া হওয়ার কথা প্রায় ৩৮ টাকা। কিন্তু আগ থেকেই তারা ৪০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। আর সোমবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এখন ৫০ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। অথচ বিআরটিএ এখনো কোনো বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়নি।’
আলিফ পরিবহনের চালক ফারুক মিয়া বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ায় গাড়ির খরচ বাড়ছে। ভাড়া ৫-১০ টাকা বেশি না নিলে খাবো কী? তবে স্বল্প দূরত্বের সর্বনিন্ম ভাড়া ১০ টাকাই রাখা হচ্ছে। শুধু দূরের যাত্রী যারা তাদের ভাড়া কিছুটা বাড়ছে।’
নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে ঢাকার উত্তরা (আব্দুল্লাহপুর) রুটে ইকবাল এন্টারপ্রাইজের এসি বাস চলাচল করে। গতকাল থেকে এ বাসের ভাড়া ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বাড্ডা লিংকরোড কাউন্টার থেকে উত্তরা পর্যন্ত আগে ৯০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও গতকাল থেকে ১১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে এসি বাসের ভাড়া বিআরটিএ নির্ধারণ করে না। এসব বাসের মালিকেরা নিজেদের মতো করে ভাড়া বাড়িয়ে নিচ্ছেন।
উত্তরা হাউজ বিল্ডিংয়ে ইকবাল পরিবহনের টিকিট বিক্রি করেন শাকিব। তাঁর ভাষ্য, গতকাল তাঁর কোম্পানি সব গন্তব্যে ২০ টাকা করে ভাড়া বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে। শুধু নতুন বাজার থেকে উত্তরা বা সাইনবোর্ড পর্যন্ত ১০ টাকা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
পরে ইকবাল এন্টারপ্রাইজের অফিসের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ কল রিসিভ করেননি। বিআরটিএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের মুঠোফোনেও কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক কাজী জোবায়ের মাসুদ বলেন, ‘বাসভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখোনো বিআরটিএ থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি। এর বাইরে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।’
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘সংকট মোকাবিলায় দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে দায়িত্ব গ্রহণের ৭ মাসের মাথায় ২ দফা জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে নতুন সরকার। এ কারণে যাতায়াত, যোগাযোগ, পণ্য ও যাত্রী পরিবহনসহ শিল্প উৎপাদনে ভাড়া ও মূল্য উসকে দিয়েছে। এমন গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে ফেরত এসে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি তেলের বর্ধিতমূল্য প্রত্যাহার করে পূর্বের মূল্য বহাল রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার জনস্বার্থে কোথাও ব্যবসা করবে, কোথাও ভর্তুকি দেবে- এটাই বাস্তবতা। দেশের চরম আর্থিক সংকটের এই মুহূর্তে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিয়ে দেশের অর্থনীতি সচল রাখা, মূল্যস্ফীতি কমানোর মধ্যদিয়ে দেশের সংকটাপন্ন জনগণের পাশে থাকা সরকারের দায়িত্ব।’
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ পোস্ট বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের স্মারকলিপি
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল
- শতবর্ষী ৮০৮ স্কুল-কলেজের তালিকা করল মাউশি
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- অপ্রতিম হ/ত্যার রহস্যময় তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ
- আত্মহ/ত্যার আগে যা লিখেছিলেন এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী