×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও উপকূলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে চীনা বিনিয়োগ চান স্পিকার

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৪:৩৪:৫৩

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও উপকূলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে চীনা বিনিয়োগ চান স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের জোরালো সহযোগিতা চেয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ভোলাসহ বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনাময় সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব আহ্বান জানান স্পিকার। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি খাত, আঞ্চলিক করিডোর গঠনসহ দুই দেশের সার্বিক উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

স্পিকার বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দেশের অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়নে দেশটি সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে প্রথম ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

বিগত সরকারের দীর্ঘ শাসনামলের প্রসঙ্গ তুলে স্পিকার বলেন, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ব্যাপক অর্থ পাচার, গুম ও খুনের রাজনীতি দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল। তবে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও জনগণের পছন্দ ও গণতন্ত্রের সঠিক ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে বিদ্যমান সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানান স্পিকার। তিনি বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নানা প্রতিকূলতার মুখে রয়েছে। এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীন সরকারের কার্যকর ও জোরালো সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

জবাবে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতা ও সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, চীন বাংলাদেশকে উন্নয়নের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার মনে করে। বাংলাদেশে চীনের বড় বড় মেগাপ্রকল্পের পাশাপাশি মাঝারি ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগও বর্তমানে কার্যকর রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন সরকার বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী পণ্য উৎপাদনভিত্তিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে অত্যন্ত আগ্রহী। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)সহ বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করতে পারে বলে বেইজিং মনে করে।

বৈঠকে দুই দেশের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ বাড়ানো, বহুমাত্রিক আঞ্চলিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর’ প্রতিষ্ঠা, চলমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং যৌথ জ্বালানি উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়।

স্পিকার আবারও জানান, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক ও নীতিগতভাবে ‘ওয়ান চায়না পলিসি’ সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও এ সমর্থন দৃঢ় থাকবে। ভোলাসহ দেশের সমুদ্র উপকূলীয় সম্ভাবনাময় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে চীনা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান তিনি। পাশাপাশি ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীর প্রার্থিতায় চীন সরকারের সমর্থন কামনা করেন।

সৌজন্য সাক্ষাতে চীনা দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত