ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
সর্দি-কাশিতে গরম পানি, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ডুয়া ডেস্ক: বর্ষাকালে সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা কিংবা জ্বরের মতো সমস্যা অনেকের কাছেই পরিচিত। টানা বৃষ্টি, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অনেকেই দ্রুত আরাম পেতে গরম পানির ওপর নির্ভর করেন। কেউ সারাদিন উষ্ণ পানি পান করেন, আবার কেউ গরম চা বা স্যুপে স্বস্তি খোঁজেন।
তবে প্রশ্ন হলো, খুব গরম পানি কি সত্যিই দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে, নাকি এ ধারণার পেছনে রয়েছে ভুল বোঝাবুঝি?
চিকিৎসকদের মতে, সর্দি-কাশি বা গলার সংক্রমণ হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় গলা ও নাকের ভেতরের টিস্যুতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। ফলে গলা ব্যথা, খুসখুসে ভাব, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
এ সময় শরীর জীবাণুকে প্রতিরোধ করতে অতিরিক্ত শ্লেষ্মা (মিউকাস) তৈরি করে। একই সঙ্গে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বাড়তি শক্তি ব্যয় হওয়ায় ক্লান্তি, অবসাদ কিংবা জ্বরও দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শ্লেষ্মা আরও ঘন হয়ে নাক বন্ধের সমস্যা ও অস্বস্তি বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠান্ডা লাগলে খুব গরম নয়, বরং ঈষদুষ্ণ পানি পান করাই বেশি উপকারী। অতিরিক্ত গরম পানি গলার সংবেদনশীল টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে। এতে গলার জ্বালা, খুসখুসে ভাব বেড়ে যেতে পারে, এমনকি মুখ ও গলার ভেতরের টিস্যু পুড়েও যেতে পারে।
অন্যদিকে, ঈষদুষ্ণ পানি গলার অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি নাকের ভেতরে জমে থাকা শ্লেষ্মা কিছুটা পাতলা হয়ে নাক বন্ধের সমস্যাও কমাতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ঠান্ডা লাগলে শরীরকে আর্দ্র রাখতে সারা দিনে অল্প অল্প করে ঈষদুষ্ণ পানি পান করা উচিত। এর পাশাপাশি হালকা গরম পানিতে মধু মিশিয়ে পান করা, ভেষজ চা পান করা, কুসুম গরম লবণপানি দিয়ে গার্গল করা, গরম পানির ভাপ নেওয়া এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া উপকারী হতে পারে।
খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও হালকা ও পুষ্টিকর খাবারের ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। শাকসবজি, মাছ বা মুরগির পাতলা ঝোল শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও তরল সরবরাহ করে। পাশাপাশি ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল এবং অন্যান্য ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
তবে চিকিৎসকেরা মনে করিয়ে দেন, গরম বা ঈষদুষ্ণ পানি সাময়িকভাবে গলার অস্বস্তি কমাতে এবং শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করলেও এটি কোনো ওষুধ নয়। এটি সর্দি-কাশির সংক্রমণ সারিয়ে তোলে না। জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে, তীব্র গলা ব্যথা বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ সেপ্টেম্বর)
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- পে-স্কেলের গেজেট কেন প্রকাশ হচ্ছে না, জানা গেল রহস্যময় তথ্য
- দুই মন্ত্রীর দায়িত্ব বাড়াল সরকার
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ সেপ্টেম্বর)
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- রোববার বিদ্যুৎ থাকবে না অর্ধশতাধিক এলাকায়