ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

গাজী নজরুলকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন গাড়িচালক

২০২৬ জুলাই ২৯ ১৪:৫৫:৩৮

গাজী নজরুলকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন গাড়িচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। চাকরি, সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়া, ঠিকাদারি লাইসেন্স এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও আলোচিত তরুণীর মামা ওবায়দুর রহমান।

বুধবার (২৯ জুলাই) একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তা ধামাচাপা দিতে তাঁকে অর্থ, পদ-পদবি ও অন্যান্য সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান।

এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে শ্যামনগরসহ সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে মানববন্ধন, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

ওবায়দুর রহমানের ভাষ্য, আত্মীয়তার সূত্রে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম আলোচিত তরুণীর পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ থেকেই রাজধানীর পল্লবীতে ওই পরিবারের বাসায় তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সংসদ সদস্যদের সরকারি হোস্টেলে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়ার পরও ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি প্রায়ই সেখানে যেতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, গভীর রাতে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের বিষয়টি সন্দেহের জন্ম দেয়। পরে অনুসন্ধান করে জানতে পারেন, গোপন যোগাযোগের জন্য তরুণীকে আলাদা একটি মোবাইল ফোন দেওয়া হয়েছিল। ওই ফোনে ব্যবহৃত সিমটি শ্যামনগরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের নামে নিবন্ধিত ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

ওবায়দুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে প্রথমে তাঁকে অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে একটি নোয়া গাড়ি, সংসদ ভবনে চাকরি, সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস-২) হিসেবে পরিচয় এবং তথাকথিত ‘মুতা বিয়ে’র প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ না করে তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন বলে জানান।

তাঁর অভিযোগ, তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহকে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দিতে সংসদ সদস্যের প্রভাব ব্যবহার করা হয়। ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে একাধিক প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স সংগ্রহ এবং সরকারি কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ওবায়দুর রহমান বলেন, অনিয়মের প্রতিবাদ করায় গত ১৪ জুলাই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন তিনি। তাঁর দাবি, ওই মামলায় দুই আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

তিনি বলেন, জীবনের ঝুঁকি জেনেও তিনি সত্য গোপন করেননি। কোনো প্রলোভনে রাজি না হয়ে যা দেখেছেন, তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন। বর্তমানে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি শঙ্কিত বলে জানান।

এর আগে গত ২২ জুলাই নৈতিকস্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয়ভাবে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপর থেকে তাঁর নির্বাচনি এলাকা শ্যামনগরে প্রতিবাদের মাত্রা বাড়তে থাকে। মঙ্গলবার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে তাঁর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। সমাবেশে বক্তারা তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি... বিস্তারিত