ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বকাপে টানা দুই পেনাল্টি মিস, মেসির ভুলটা কোথায়?

২০২৬ জুলাই ০৮ ০০:২৪:৩৯

বিশ্বকাপে টানা দুই পেনাল্টি মিস, মেসির ভুলটা কোথায়?

স্পোর্টস ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির পেনাল্টি নেওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত দুটি পেনাল্টির সুযোগ পেলেও কোনোটিই জালে জড়াতে পারেননি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। ফলে তার পেনাল্টি দক্ষতা নিয়ে ফুটবলবিশ্বে নানা বিশ্লেষণ চলছে।

অথচ ২০২২ বিশ্বকাপে চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেবার নির্ধারিত সময়ে পেনাল্টি থেকে চারটি গোল করেছিলেন মেসি। টাইব্রেকার মিলিয়ে পেনাল্টি থেকে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ছয়ে। শান্ত মানসিকতা, নিখুঁত সিদ্ধান্ত এবং গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করার কৌশলই ছিল তার সাফল্যের মূল রহস্য।

মূলত দুটি ভিন্ন ধরনের পদ্ধতিতে পেনাল্টি নিতেন মেসি। প্রথমটি ছিল নিয়ন্ত্রিত সাইড-ফুট শট। এ ক্ষেত্রে তিনি গোলরক্ষকের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে বিপরীত দিকে বল পাঠাতেন। দ্বিতীয়টি ছিল শক্তিশালী ইনস্টেপ শট, যেখানে বলের গতি ও শক্তিই ছিল প্রধান অস্ত্র।

রান-আপের সময় মেসি সাধারণত ছোট ছোট পদক্ষেপে এগোতেন। এতে তিনি নিজের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারতেন এবং একই সঙ্গে গোলরক্ষকের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেতেন। গোলরক্ষক একবার কোনো দিকে ঝুঁকে পড়লেই তিনি ঠান্ডা মাথায় বল পাঠিয়ে দিতেন বিপরীত কোণে। এই ধরনের শটের গতি সাধারণত ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকত। সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সের বিপক্ষে তিনি এই কৌশলেই সফল হয়েছিলেন।

তবে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক যদি স্থির থাকতেন বা তার পরিকল্পনা বুঝে ফেলতেন, তখন কৌশল বদলে ফেলতেন মেসি। সে ক্ষেত্রে তিনি বলের দিকেই মনোযোগ রেখে সরাসরি দৌড়ে এসে জোরালো ইনস্টেপ শট নিতেন। অনেক সময় সেই শটের গতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি হতো এবং বল চলে যেত গোলবারের ওপরের কোণে। এত দ্রুতগতির শট ঠেকানো গোলরক্ষকের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ত। যদিও এই কৌশলে তার সফলতার হার ছিল তুলনামূলক কম প্রায় ৫০ শতাংশ। ২০২২ বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ব্যর্থ হলেও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে একই পদ্ধতিতে গোল করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির পেনাল্টি নেওয়ার ধরনে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। অস্ট্রিয়া ও মিশরের বিপক্ষে তিনি অপেক্ষাকৃত জোরালো শট নেওয়ার পথই বেছে নিয়েছেন। প্রথমটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়, আর দ্বিতীয়টি প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২২ বিশ্বকাপে সফলভাবে ব্যবহার করা অপেক্ষাকৃত ধীর ও কৌশলনির্ভর পদ্ধতি থেকে সরে আসাই এবারের পেনাল্টি ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত