ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

চামড়া শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে নতুন পরিকল্পনা: বাণিজ্যমন্ত্রী

২০২৬ জুলাই ০৭ ২১:৩৫:০০

চামড়া শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে নতুন পরিকল্পনা: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের চামড়া শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং এ খাতের রপ্তানি আয় বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

নোটিশ উত্থাপন করে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, একসময় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হিসেবে পরিচিত সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্প বর্তমানে সংকটের মুখে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি সাভার ট্যানারি কমপ্লেক্সের সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সঠিকভাবে পরিচালিত না হওয়ায় এ শিল্পের এক লাখের বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে একটি কাঁচা চামড়ার সর্বনিম্ন মূল্য যেখানে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা ছিল, বর্তমানে তা অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গরিব কৃষক ও কওমি মাদরাসাগুলো। তার দাবি, এবারের কোরবানি ঈদে পর্যাপ্ত আর্থিক ঋণ সহায়তা এবং সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় লবণ সরবরাহ না থাকায় প্রায় ৩১ লাখ কাঁচা চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য তিনি মন্ত্রণালয়ের জরুরি পদক্ষেপের ঘাটতিকে দায়ী করেন। একই সঙ্গে সাভারের সিইটিপির আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক এলডব্লিউজি (লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ) সার্টিফিকেশন অর্জন এবং রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়া শিল্পের বর্তমান সংকটের বিষয়টি অনস্বীকার্য। তিনি জানান, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের সময় ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার কারণেই এ শিল্পের উদ্যোক্তারা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন।

মন্ত্রী জানান, সাভারের সিইটিপির দৈনিক ২৫ হাজার কিউবিক মিটার বর্জ্য পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে এটি মাত্র ১৪ থেকে ১৭ হাজার কিউবিক মিটার বর্জ্য পরিশোধন করতে পারছে। পাশাপাশি সেখানে ক্ষতিকর ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধারের কোনো ব্যবস্থা নেই। আন্তর্জাতিক এলডব্লিউজি সনদ অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় স্কোরের ঘাটতি এবং ট্যানারিগুলোর নিজস্ব কমপ্লায়েন্সের অভাবের কারণে বিদেশি বড় ক্রেতারা অর্ডার কমিয়ে দিয়েছেন, যার প্রভাব পড়েছে কাঁচা চামড়ার বাজারেও।

তবে ৩১ লাখ চামড়া নষ্ট হওয়ার তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এবারের কোরবানি ঈদে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ পশুর মধ্যে সরকারের প্রচার ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৭০ লাখ চামড়া সফলভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

ব্যাংক ঋণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, চামড়া ব্যবসায়ীদের ঢালাওভাবে ঋণ দেওয়া হলে অপব্যবহারের ঝুঁকি ছিল এবং ব্যাংকগুলো সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা পেত না। এ কারণেই বাজারের স্বার্থ বিবেচনায় এবার বড় অঙ্কের নগদ ঋণ দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও জানান, চামড়া সংরক্ষণে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঈদের পর এক সপ্তাহ ঢাকায় চামড়াবাহী ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সাভারের ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সাভারের সিইটিপির সক্ষমতা পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরুদ্ধার, আরও একটি নতুন সিইটিপি স্থাপন, বড় ট্যানারিগুলোর জন্য নিজস্ব ইটিপি বাধ্যতামূলক করা এবং অক্ষম উদ্যোক্তাদের জন্য সম্মানজনক বিদায়ের ব্যবস্থা করা হবে।

এসব সময়োপযোগী পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী দিনে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাত থেকে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রপ্তানি আয় অর্জন সম্ভব হবে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত